শুক্রবার রাশিয়ার সামরিক বাহিনী দাবি করে, তারা ইউক্রেনের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পূর্বাঞ্চলীয় শহর কোস্তিয়ানতিনিভকা দখল করেছে। পরে রাশিয়ার সেনাবাহিনী প্রেসিডেন্ট পুতিনকে এ বিষয়ে জানায়। তবে রাশিয়ার দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শনিবার (৪ জুলাই) জানিয়েছেন, কোস্তিয়ানতিনিভকা এখনও ইউক্রেনীয় বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি বলেন, ‘এটি (রাশিয়ার দাবি) সত্য নয়। এটি কেবল আরেকটি রুশ মিথ্যাচার, নতুন কোনো খবর তৈরি করার চেষ্টা।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি কোস্তিয়ানতিনিভকা সত্যিই রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকত, তাহলে পুতিনের সেখানে এসে আমার সঙ্গে দেখা করে এই যুদ্ধের কূটনীতিক সমাধানের পথ খুঁজতে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।’
ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফও এক বিবৃতিতে জানায়, কোস্তিয়ানতিনিভকা এখনও ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পূর্বাঞ্চলীয় গ্রুপিংয়ের ১৯তম আর্মি কর্পসের ইউনিটগুলো শহরের নির্ধারিত প্রতিরক্ষা অবস্থান ও শহরের প্রবেশপথে প্রতিরক্ষামূলক অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
কোস্তিয়ানতিনিভকা ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের চারটি গুরুত্বপূর্ণ শহরের মধ্যে সবচেয়ে দক্ষিণে অবস্থিত। এই শহরগুলো ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা লাইনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ও শিল্পসমৃদ্ধ দোনেৎস্ক অঞ্চল ধরে রাখার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, কোস্তিয়ানতিনিভকা দখল করতে পারলে রুশ বাহিনী উত্তর দিকে অগ্রসর হওয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান পাবে। বর্তমানে এই প্রতিরক্ষা লাইনই রাশিয়ার সামরিক অভিযানের প্রধান লক্ষ্য।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শনিবার আরও দাবি করে, তারা পূর্ব ইউক্রেনের আরও পাঁচটি গ্রাম দখল করেছে। এর মধ্যে খারকিভ অবলাস্ত অঞ্চলের শিইকিভকা, নোভিই মির, চেরনেশচিনা ও দ্রুজেলিউবিভকা এবং দোনেৎস্ক অবলাস্ত অঞ্চলের ভাসিলিভকা রয়েছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স