ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের করিমনগর জেলায় এক দিনমজুর নারীর কাছ থেকে সোনা ও নগদ অর্থ লুটের পর তাকে নির্জন কুয়ায় ফেলে দেয় এক তরুণ। প্রায় ২১ ঘণ্টা কুয়ার ভেতরে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পর ৫৫ বছর বয়সী ওই নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
তদন্তকারীদের দাবি, অনলাইন জুয়া ও বেটিংয়ে বিপুল ঋণের বোঝায় জর্জরিত এক ২১ বছর বয়সী শিক্ষার্থী পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটায়। পরে ধরা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ওই নারীকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুয়ায় ফেলে দেন তিনি।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, অনলাইন জুয়া ও বেটিংয়ে প্রায় ৪ লাখ রুপি হারিয়ে ঋণে ডুবেছিলেন অভিযুক্ত তরুণ। ওই নারী বেঁচে থাকলে তাকে শনাক্ত করতে পারবেন, এমন আশঙ্কা থেকে লুটের পর তাকে কুয়ায় ঠেলে ফেলে দেওয়া হয়।
ঘটনাটি প্রথমে নিখোঁজের মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। গত বুধবার টাঙ্গারালা লক্ষ্মী বাড়ি না ফেরায় তার ছেলে থানায় অভিযোগ করেন।
আজ রোববার এক প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানিয়েছে, ওই নারীর দীর্ঘক্ষণ বেঁচে থাকার লড়াই এবং শেষ পর্যন্ত জীবিত উদ্ধার হওয়ার ঘটনা তদন্তে বেরিয়ে আসে, পরিকল্পিত একটি ডাকাতি কীভাবে হত্যাচেষ্টায় রূপ নেয়।
করিমনগরের পুলিশ কমিশনার গাউস আলম বলেন, ‘প্রথম রাতে আমরা কেবল নিখোঁজের অভিযোগ পাই। তার ছেলে জানান, তার মা কাজ শেষে বাড়ি ফেরেননি। তখন কারো ওপর সন্দেহ ছিল না। তাই সাধারণ নিখোঁজের মামলা হিসেবে অভিযোগটি নথিভুক্ত করা হয়।
‘তবে পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে করিমনগরের নুস্তুলাপুর গ্রামের উপকণ্ঠ থেকে ১০০ নম্বরে একটি ফোনকল পাওয়ার পর তদন্তে নাটকীয় মোড় আসে। স্থানীয় বাসিন্দারা একটি গভীর কুয়া থেকে টাঙ্গারালাকে জীবিত উদ্ধার করে ওই ফোন দিয়েছিলেন।’
কাজ দেওয়ার প্রলোভন
উদ্ধারের পর টাঙ্গারালা পুলিশকে জানান, অচেনা এক তরুণ তার কাছে এসে নিজের খামারে কাজ দেওয়ার প্রস্তাব দেন।
পুলিশ কমিশনার গাউস আলম বলেন, অভিযুক্ত প্রথমে একটি মোটরবাইক ভাড়া করে টাঙ্গারালাকে থিম্মাপুর গ্রামের দিকে নিয়ে যায়। তবে সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা ও মানুষের চলাচল থাকায় নির্জন জায়গা খুঁজে না পেয়ে তাকে নুস্তুলাপুর গ্রামের কাছে একটি নির্জন সড়কে নিয়ে যায়।
পুলিশের ভাষ্য, সেখানে পৌঁছানোর পর টাঙ্গারালাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে প্রায় ৫ গ্রাম স্বর্ণালংকার, ২০ গ্রাম রুপার নূপুর ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেয়।
তদন্তকারীরা বলছেন, লুটের একমাত্র সাক্ষীকে সরিয়ে ফেলতে এরপর তাকে হত্যার চেষ্টা করেন ওই তরুণ।
গাউস আলম বলেন, ‘তার উদ্দেশ্য ছিল একদম স্পষ্ট। লুটের পর তিনি চেয়েছিলেন ভুক্তভোগীর মৃত্যু হোক, যাতে কেউ তাকে শনাক্ত করতে না পারে। এ থেকেই তার উদ্দেশ্য পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত হয়।’