গাজায় নিজেদের সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত করার মধ্য দিয়ে হামাস মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এই বার্তাই দিতে চাইছে, উপত্যকায় তার ঝিমিয়ে পড়া শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এই গোষ্ঠী কোনো বাধা নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মিডল ইস্ট আইকে এমনটাই জানিয়েছেন।
হামাস গতকাল সোমবার ঘোষণা দেয়, প্রায় দুই দশক ধরে গাজা শাসন করা তাদের প্রশাসনিক কাঠামো বিলুপ্ত করা হয়েছে।
হামাসের সরকারি তথ্য দপ্তরের প্রধান ইসমাইল আল-থাওয়াবতা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘গাজা সরকারের জরুরি কমিটির প্রধান মোহাম্মদ আল-ফাররা আনুষ্ঠানিকভাবে তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।’
‘গাজার প্রশাসনিক ও সরকারি দায়িত্ব যেন সহজে ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজার (এনসিএজি) কাছে হস্তান্তর করা যায়, সেজন্য তিনি ওই কমিটি বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন’, যোগ করেন ইসমাইল।
২০০৬ সালে ফিলিস্তিনের আইনসভা নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে হামাস। এর কিছুদিন পর সংগঠনটির সঙ্গে তাদের ধর্মনিরপেক্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী ফাতাহর সংঘর্ষ শুরু হয়।
পরে গাজায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করে হামাস। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) মাধ্যমে পশ্চিম তীরে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে ফাতাহ।
ওয়াশিংটনের কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপন্সিবল স্টেটক্রাফটের মিডল ইস্ট প্রোগ্রামের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো খালেদ এলগিনদি মিডল ইস্ট আইকে বলেন, ‘হামাস মূলত ট্রাম্পকে এই সংকেত দিচ্ছে, ইসরায়েলের মতো তারা এই শান্তি চুক্তির পথে বাধা নয়। ইসরায়েল প্রতিদিন গাজায় বোমা মেরে মানুষ হত্যা করছে।’
এলগিনদি বলেন, ‘গাজায় বেসামরিক প্রশাসনের দায়িত্ব এনসিএজির হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়ে হামাস, পশ্চিম তীরের সীমিত প্রশাসনিক ক্ষমতাসম্পন্ন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) চেয়েও বেশি আগ্রহী।’
এই গবেষকের মতে, হামাসের এই সিদ্ধান্ত ‘অপ্রত্যাশিত নয়, তবে এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ’।
এনসিএজি হলো গাজার ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটদের নিয়ে গঠিত একটি প্রশাসনিক কমিটি। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিসরের মধ্যস্থতায় হওয়া শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে গাজার দৈনন্দিন প্রশাসন পরিচালনার জন্য এই কমিটি গঠনের পরিকল্পনা করা হয়।
ওই শান্তি চুক্তির লক্ষ্য ছিল, গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক অভিযান বন্ধ করা। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় গাজায় এ পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
তবে এখন পর্যন্ত এনসিএজি গাজায় প্রবেশ করতে পারেনি। বর্তমানে এই কমিটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে মিসরের রাজধানী কায়রো থেকে।