যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি চুক্তিতে পাকিস্তানের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন রিপাবলিকান সিনেটর রিক স্কট। একই সঙ্গে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষবিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তেহরানে যাওয়ার পর ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে ‘ভণ্ডামির’ অভিযোগ এনেছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আজ মঙ্গলবার দেওয়া এক পোস্টে সিনেটর এ অভিযোগ করেন বলে জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করা পাকিস্তানের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্কট বলেন, ‘এই পুরো পরিস্থিতির মধ্যে পাকিস্তান আসলে কেমন দেশ, আমাদের তা মনে রাখা দরকার।
‘আমরা এমন এক দেশের কথা বলছি, যেখানে ওসামা বিন লাদেন এক দশক ধরে লুকিয়ে ছিলেন; যেখানে খ্রিষ্টানদের নির্যাতন করতে ধর্ম অবমাননা আইনের যথেচ্ছ ব্যবহার করা হয় এবং যে দেশের প্রধানমন্ত্রী সদ্য ইরানের সেই শাসকের প্রশংসা করেছেন, যিনি গণহত্যাকারী ও নিষ্ঠুর স্বৈরশাসক ছিলেন।’
মার্কিন সিনেটর আরও বলেন, ‘মধ্যস্থতা করার ক্ষেত্রে হামাসকে আশ্রয় দেওয়া কাতারের চেয়ে পাকিস্তান কোনো অংশে বেশি যোগ্য নয়। ইসলামাবাদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে নেওয়া উচিত। আমরা নিবিড়ভাবে নজর রাখছি।’
তেহরানে খামেনির জানাজায় শাহবাজ শরিফের উপস্থিতি এবং প্রয়াত এই ইরানি নেতার প্রতি তার শ্রদ্ধা নিবেদনের পরই মার্কিন সিনেটর এসব মন্তব্য করলেন।
ওই সিনেটরের শেয়ার করা এক ভিডিওতে শাহবাজ ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা খামেনি সম্পর্কে বলেন, তিনি ‘একজন মহান পণ্ডিত এবং নেতা, যাকে কোটি কোটি মুসলমান স্মরণ রাখবে। যেকোনো পরিস্থিতিতে পাকিস্তান ও ইরান একসঙ্গে পথ চলবে’।
ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের শুরু করা যুদ্ধের প্রথম দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি বিমান হামলায় নিহত হন খামেনি ও তার পরিবারের চার সদস্য।
রাষ্ট্রীয় পতাকায় মোড়ানো তাদের কফিন নিয়ে তেহরানে গতকাল সোমবার বিশাল শোকমিছিল বের করা হয়। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয় এবং অনেক শোকার্ত মানুষ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মৃত্যুর দাবিতে স্লোগান দেন।
শোকমিছিলে উপস্থিত অনেকের হাতে প্রতিশোধের দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড এবং ট্রাম্পের কুশপুত্তলিকা দেখা গেছে।