যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সৌদি আরবের বেসামরিক পরমাণু জ্বালানি কর্মসূচি গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্র যে সহযোগিতা দেবে, তা কার্যকর হবে শুধু তখনই, যখন রিয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েল রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেবে।
নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে গতকাল বৃহস্পতিবার দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
ট্রাম্প লিখেছেন, ‘বেসামরিক পরমাণু চুক্তি (এতে কোনো ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ থাকবে না), যা কেবল বেসামরিক ব্যবহারের জন্য প্রযোজ্য, তা অনুমোদন করা হবে। তবে এটি পুরোপুরি নির্ভর করছে সৌদি আরবের অত্যন্ত সম্মানিত ও সফল আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার ওপর।’
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, তবে এটি এখনো স্পষ্ট নয়, প্রকাশ না হওয়া পরমাণু চুক্তির নথিতেই এই শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে, নাকি সৌদি আরব আলাদাভাবে এতে সম্মতি দিয়েছে।
এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের মন্তব্যের কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি সৌদি আরব।
আব্রাহাম অ্যাকর্ডস হলো ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও কয়েকটি আরব দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত একাধিক সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ চুক্তি। এখন পর্যন্ত এতে যোগ দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদান।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বৃহস্পতিবার জানান, ট্রাম্প এর আগেও একাধিকবার সৌদি নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় এই শর্তের কথা তুলে ধরেছেন।
লেভিট বলেন, ‘তিনি (ট্রাম্প) স্পষ্ট করে বলেছেন, তারা (সৌদি আরব) যদি আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ না দেয়, তাহলে এই চুক্তিও হবে না। আমরা আমাদের সৌদি অংশীদারদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখব।’
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ সতর্ক করে বলেছেন, গত বুধবার ঘোষিত যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি পরমাণু চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের মতো অস্থিতিশীল অঞ্চলে ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতাও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তবে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট উভয় কক্ষেই ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিরোধীদের এটি আটকে দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত ভোট নেই বলে মনে করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তির আওতায় একটি ‘শান্তিপূর্ণ পরমাণু সহযোগিতা চুক্তি’ এবং একটি 'দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সুরক্ষা চুক্তি' রয়েছে।
এই দুটি চুক্তি একসঙ্গে কয়েক দশকব্যাপী বহু বিলিয়ন ডলারের অংশীদারত্বের আইনি ভিত্তি তৈরি করবে। এর মাধ্যমে ‘পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধসহ’ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত লক্ষ্য এগিয়ে নেওয়া হবে।