হুতিরা ইরানের সম্পূর্ণ সমর্থন পেয়ে সামরিক ও কূটনৈতিকভাবে শক্তিশালী হচ্ছে।
হুতিদের হুমকি ও পরিস্থিতির পটভূমি
ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে বলেন,
“যদি যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে মিলিত হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে লোহিত সাগরে আমাদের বাহিনী মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে। আমরা পরিস্থিতি অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।” হুতিরা ইরানের সম্পূর্ণ সমর্থন পেয়ে সামরিক ও কূটনৈতিকভাবে শক্তিশালী হচ্ছে। তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা দিন দিন বাড়ছে।
মার্কিন প্রতিক্রিয়া ও প্রস্তুতি
মার্কিন সামরিক সূত্র জানায়, তারা হুতিদের হুমকিকে গুরুত্বসহকারে নিয়েছে এবং লোহিত সাগরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। গত বছর এই এলাকায় হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ও কিছু সেনা নিহত হয়েছিল।
মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা লোহিত সাগরে নিজেদের বাহিনী ও নৌযানগুলোর সুরক্ষায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে এবং যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দিতে সক্ষম।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বাণিজ্যে প্রভাব
লোহিত সাগর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আফ্রিকা ও ইউরোপ হয়ে বিশ্ববাজারে পণ্য পরিবহনে এই পথ অপরিহার্য।
সাগরের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিরাট প্রভাব পড়বে। ইয়েমেনের সংঘাত দীর্ঘদিন ধরে চললেও হুতিদের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারি এই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
বিশ্লেষক ও কূটনীতিকদের মতামত
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হুতিদের হুঁশিয়ারি উত্তেজনাকে বাড়িয়ে দিতে পারে এবং বড় কোনো সামরিক সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তারা যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের কূটনৈতিক চেষ্টা বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন।
এক কূটনীতিক মন্তব্য করেছেন,
“লোহিত সাগরের মত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথে সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”
হুতিদের হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সংকটাপন্ন করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত উত্তেজনা প্রশমনের জন্য সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করা। লোহিত সাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয়।