হাতজোড় করে একবারের জন্য সুযোগ চেয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) কলকাতা বিমানবন্দর থেকে দেওয়া এক অডিও ভাষণে তিনি এই সুযোগ চান।
এদিন দেশটির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে উন্নয়ন থমকে থাকার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে দায়ী করেন তিনি। এ সময় রাজ্যের আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান মোদি। তিনি বলেন, হাতজোড় করে অনুরোধ করছি, আপনারা বিজেপিকে একবার সুযোগ দিয়ে দেখুন।
ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট সরকারের জয়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মোদি বলেন, ‘গোটা দেশ উন্নয়নের গতি চায়। এই উন্নয়নের জন্য বিহারের মানুষ এনডিএ সরকারকে ক্ষমতায় এনেছে। বিহারে জয়ের পর আমি একবার বলেছিলাম গঙ্গা নদী বিহার থেকে বয়ে পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছায়।
তিনি আরও বলেন, বিহারই পশ্চিমবঙ্গেও জয়ের রাস্তা তৈরি করে দিয়েছে। বিহারের জঙ্গলরাজ (অরাজকতা) খতম করেছে, প্রায় বিশ বছর পরে আগের থেকেও সেখানে বেশি আসনে জিতেছে বিজেপি। আজ পশ্চিমবঙ্গও যে জঙ্গলরাজ চলছে তা থেকে মুক্তি পেতে হবে। সেই কারণে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটা বাচ্চা, গ্রাম, শহর, গলি, মহল্লা বলছে- ‘বাঁচতে চাই বিজেপি তাই’।
নরেন্দ্র মোদি বলেন, বিজেপির অনবরত প্রচেষ্টার মাঝে কোথাও কোথাও ‘গো ব্যাক মোদি’ বলে স্লোগান দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় ‘গো ব্যাক মোদি’র জন্য বাংলার মানুষের বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেস সরকার স্লোগান দিচ্ছে। কিন্তু গো ব্যাক অনুপ্রবেশকারীদের বেলায় ওরা চুপ করে থাকে। যে অনুপ্রবেশকারীরা বাংলাকে কজ্জা করতে চাইছে, তারাই তৃণমূলের কাছে সবচেয়ে আদরের। এটাই তৃণমূলের আসল চেহারা। ওরা অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচানোর জন্য বাংলায় এসআইআর-এর বিরোধিতা করেছে।
২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে রাজ্যের নদীয়া জেলার তাহেরপুরে জনসভার আয়োজন করে বিজেপি। শনিবার সকালে ওই সভায় যোগ দিতে দিল্লি থেকে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছায় তার বিশেষ বিমান। তবে ঘন কুয়াশা ও কম দৃশ্যমানতার কারণে হেলিকপ্টার জনসভাস্থলের আকাশে চক্কর দিয়েও অবতরণ করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত সেটি কলকাতা বিমানবন্দরে ফিরে আসে এবং বিমানবন্দর থেকেই ভার্চ্যুয়ালি জনসভায় অডিও ভাষণ দেন মোদি।