মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে—বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বড়
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে উত্তেজনা যখন চরমে, তখন ইরানের পার্লামেন্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে—হরমুজ প্রণালী বন্ধের সিদ্ধান্ত। পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির এক বিশেষ অধিবেশনে এই প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়।
ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানায়,
এই পদক্ষেপ মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘আগ্রাসী তৎপরতা’র জবাবে নেওয়া হয়েছে। পার্লামেন্ট সদস্যরা একে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে ‘আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। প্রতিদিন গড়ে ১৭ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এই পথে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্ববাজারে যায়। এই প্রণালী বন্ধ হলে তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যেতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে বড় ধাক্কা দিতে পারে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া:
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এই সিদ্ধান্তকে ‘উস্কানিমূলক ও বিপজ্জনক’ বলে আখ্যা দিয়েছে। হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে জানায়,
“বিশ্ব বাণিজ্যের এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ অবরুদ্ধ করা হলে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে। আমরা মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে এ বিষয়ে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি।”
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও এই সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন,
“বহুপাক্ষিক আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমেই উত্তেজনা প্রশমিত করতে হবে।”
ইরানের অবস্থান:
তেহরান থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়,
“হরমুজ প্রণালী বন্ধের সিদ্ধান্ত কোনো আগ্রাসী পদক্ষেপ নয় বরং বিদেশি হুমকি প্রতিহত করার কৌশল।”
ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা এখন থেকেই প্রণালী এলাকায় নৌবাহিনীর তৎপরতা জোরদার করছে।
বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ:
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলে সরাসরি প্রভাব পড়বে এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার অর্থনীতিতে। বিশেষত ভারত, চীন ও জাপানের মতো তেলনির্ভর দেশগুলোর ওপর এর বিরূপ প্রভাব দেখা যাবে।
ইরানের এই সিদ্ধান্ত শুধু রাজনৈতিক বার্তা নয়, এটি একটি কৌশলগত হুঁশিয়ারি। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক মহল এই সংকট কীভাবে মোকাবিলা করে এবং এর ফলে বিশ্ব রাজনীতির গতিপথ কোন দিকে মোড় নেয়।