সদ্য বিদায়ী ২০২৫ সালে সবচেয়ে বেশি ভাইরাল হয়েছে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ও সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার বৈঠকের একটি স্থিরচিত্র। এমনটাই দাবি করেছে জর্ডানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রোয়া নিউজ। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ভেরিফায়েড ফেসবুকে মেলোনি ও শারার একে অপরের দিকে তাকানোর আকর্ষণীয় ছবিটি পোস্ট করে এই দাবি করে।
ক্যাপশনে সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, ‘তোমার দিকে কেউ এমনভাবে তাকাক, যেভাবে আল-শারার দিকে তাকিয়েছিলেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। গত সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ফাঁকে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ও সিরিয়ার আহমাদ আল-শারার বৈঠকের দিকে ফিরে তাকালে দেখা যায়—সেখানে ঘটেছিল সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে তীব্র ও অর্থবহ দৃষ্টিবিনিময়গুলোর একটি।’
২০২৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন দুদেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা।
সিরিয়ান সংবাদ সংস্থা সানা এক প্রতিবেদনে জানায়, যেকোনো শীর্ষ সম্মেলন বা দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পরই ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি আলোচনায় চলে আসেন। কারণটা নীতিনির্ধারণের চেয়েও বেশি তার অভিব্যক্তি অর্থাৎ কখনো রাগ, কখনো বিরক্তি, কখনো তীক্ষ্ণ দৃষ্টি, আবার কখনো তা ‘ভালোবাসার ইঙ্গিত’ বলেই ধরা পড়ে।

প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে একান্ত বৈঠকের পরও এর ব্যতিক্রম হয়নি। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ওই সাক্ষাতের পর মেলোনি আবারও আলোচনার কেন্দ্রে। বিশেষ করে আল-শারার দিকে তার তাকিয়ে থাকার একটি মুহূর্তের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক নজর কেড়েছে। অনেকেই এটিকে মেলোনির তথাকথিত ‘ভালোবাসার দৃষ্টি’ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্সির বরাতে জানা গেছে, নিউইয়র্কে ইতালীয় মিশনের সদর দপ্তরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শিবানি এবং তার সঙ্গে থাকা প্রতিনিধিদল। রাষ্ট্রপতি আল-শারা তখন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে অবস্থান করছিলেন।
ছবিটি ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় রসিকতাও থেমে নেই। একজন ব্যবহারকারী ছবিটি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘এই তো… মনে হচ্ছে সিরিয়ানদের আর শিগগিরই ইতালির ভিসা লাগবে না।’ আরেকজন মন্তব্য করেছেন, ‘আহমেদ আল-শারার দিকে মেলোনির এই দৃষ্টি—আসলে কী চলছে?’
আরেকজন এক্স ব্যবহারকারী মজা করে বলেছেন, ‘তাহলে বুঝি আমরা ইতালিতে মার্গারিটা পিৎজা ডিনারেই খাবো।’ আরেকজন হাসির ইমোজি যুক্ত করে লিখেছেন, ‘এটা ভিন্ন কিছু নয়... সে (মেলোনি) সবার দিকে এমনভাবে তাকায়, রোমান্টিক কূটনীতি।’