ভারতের উত্তর প্রদেশের কৌশাম্বি জেলার একটি বস্তিতে পরিচয় যাচাই অভিযানের সময় পুলিশের এক কর্মকর্তার অস্বাভাবিক আচরণ ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসএইচও) বস্তিবাসীদের ‘আসল জাতীয়তা’ প্রকাশে চাপ দিতে মোবাইল ফোনকে ‘স্ক্যানার’ হিসেবে ব্যবহার করার ভান করেন। মানে কয়েক ধাপ এগিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা যেন বাংলাদেশি শনাক্তকরণ যন্ত্র ‘আবিষ্কার’ করে ফেলেছেন!
ঘটনাটি ২৩ ডিসেম্বর কৌশাম্বির ভোয়াপুর বস্তির। সেখানে প্রায় ৫০টি ঝুপড়ি ঘর রয়েছে। নিরাপত্তা যাচাইয়ের সময় সাধারণত মানবিক আচরণ ও মর্যাদা রক্ষার নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করার কথা থাকলেও ওই অভিযানে তার ব্যতিক্রম ঘটেছে বলে অভিযোগ।
সোশ্যার মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ২৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কৌশাম্বী থানার এসএইচও অজয় শর্মা পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (আরএএফ) সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে এক বস্তিবাসীর পরিচয়পত্র যাচাই করছেন। ওই ব্যক্তি নিজেকে বিহারের আরারিয়া জেলার বাসিন্দা বলে পরিচয় দেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, পরিচয়পত্র দেখানোর পরও এসএইচও তাকে প্রশ্ন করেন, তিনি বিহারের নাকি বাংলাদেশের নাগরিক। ব্যক্তি বারবার বিহারের বাসিন্দা বলে দাবি করলে এসএইচও বলেন, তার কাছে এমন একটি ‘যন্ত্র’ আছে, যা তাৎক্ষণিকভাবে জানিয়ে দেবে কে কোথা থেকে এসেছে।
এরপর এক কনস্টেবলকে দিয়ে একটি মোবাইল ফোন এনে ওই ব্যক্তির পিঠে ধরে রাখতে বলেন এসএইচও। পরে তিনি দাবি করেন, যন্ত্রটি ‘বাংলাদেশ’ দেখাচ্ছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে ওই বস্তিবাসী আবারও বলেন, ‘না স্যার, আমরা বিহার থেকে এসেছি।’ এরপর এসএইচও জানতে চান, বস্তিতে কোনো বাংলাদেশি থাকলে তারা কারা। জবাবে ওই ব্যক্তি জানান, সেখানে কোনো বাংলাদেশি নেই।
ঘটনার প্রেক্ষাপটে এসএইচও অজয় শর্মা টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, ‘আমি কোনো ভুল করিনি’। তার ভাষায়, ‘আমি শুধু চাপ প্রয়োগ করার চেষ্টা করেছি, যাতে তারা তাদের আসল পরিচয় প্রকাশ করে।’ তিনি দাবি করেন, কাউকে হয়রানিও করা হয়নি।
একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বড়দিন ও নববর্ষ সামনে রেখে এলাকায় নিয়মিত পদযাত্রা ও যাচাই অভিযান চালানো হচ্ছিল। ২৩ ডিসেম্বরও এসএইচও স্থানীয় কয়েকজনের কাগজপত্র ও পরিচয় সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলেন। তবে এ ধরনের পদ্ধতি ব্যবহারের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো নির্দেশ ছিল না বলে জানান তিনি।
এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে মানবাধিকার ও মর্যাদা রক্ষার বিষয়টি নিয়ে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে এমন আচরণ পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে বলে মত বিশ্লেষকদের।
এ বিষয়ে কৌশাম্বির পুলিশ কমিশনার জে রবীন্দ্র গৌড় টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, ‘ভিডিওটির বিস্তারিত যাচাই করা হচ্ছে। যদি প্রমাণ পাওয়া যায় যে কোনো ব্যক্তিকে পুলিশ হয়রানি করেছে, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’