গাজা উপত্যকার প্রশাসনিক দায়িত্ব একটি স্বতন্ত্র কমিটির কাছে হস্তান্তর করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস। একই সঙ্গে গোষ্ঠীটি স্পষ্ট করেছে যে, গাজার ভবিষ্যৎ কোনো শাসনতান্ত্রিক কাঠামোতে তারা সরাসরি অংশ নিতে চায় না।
হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে জানান, গাজার বিভিন্ন খাত তদারকির জন্য একটি স্বতন্ত্র বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। এই প্রস্তাবে হামাসসহ অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর সমর্থন রয়েছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, হামাস অনেক আগেই গাজার প্রশাসনিক কাঠামো থেকে বাইরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং কমিটি গঠিত হলে তারা হস্তান্তরে সব ধরনের সহায়তা করবে।
২০২৪ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত জরুরি আরব সম্মেলনে গাজায় ছয় মাসের একটি অন্তর্বর্তীকালীন মেয়াদে স্বতন্ত্র কমিটি গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। এই কমিটি ফিলিস্তিনি সরকারের অধীনে কাজ করবে। হামাস সেই সময় থেকেই এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে আসছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার গাজা পরিকল্পনার দ্বিতীয় পর্যায় ঘোষণা করতে পারেন। এতে গাজা শাসনের জন্য একটি শান্তি পরিষদ ও অন্যান্য প্রশাসনিক সংস্থা গঠনের প্রস্তাব থাকতে পারে।
এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প একটি ২০ দফার শান্তি পরিকল্পনা দিয়েছিলেন, যার মধ্যে যুদ্ধবিরতি, বন্দি মুক্তি, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার ও হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের মতো বিষয়গুলো ছিল।
২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ গাজায় ২০২৭ সাল পর্যন্ত একটি অস্থায়ী আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব পাস করে। এই বাহিনী একটি সমন্বিত কমান্ডের অধীনে গাজায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কাজ করবে।
১০ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গাজায় দুই বছরের ভয়াবহ যুদ্ধের অবসান ঘটে। তবে যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী শত শত বার তা লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যার ফলে ৪২৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৭১ হাজার ৪০০ এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।