ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের একটি মন্তব্যের কড়া নিন্দা জানিয়েছে এক ডজনের বেশি আরব ও মুসলিম দেশসহ তিনটি প্রধান আঞ্চলিক সংস্থা। তাদের মতে, এই মন্তব্য আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে।
গালফ নিউজ জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, তুরস্ক, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, ওমান, বাহরাইন, লেবানন, সিরিয়া ও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র এক যৌথ বিবৃতিতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ওই মন্তব্যে গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে।
এতে সমর্থন জানিয়েছে অরগানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি), আরব লিগ (এলএএস) ও গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি); যা এই ইস্যুতে পুরো অঞ্চলের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের প্রতিফলন ঘটায়।
মার্কিন কূটনীতিকের বক্তব্যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল, অধিকৃত পশ্চিম তীরসহ আরব রাষ্ট্রগুলোর ভূখণ্ডে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংবাদ সংস্থা ওয়াম বলছে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই মন্তব্যকে ‘বিপজ্জনক ও উস্কানিমূলক’ বলে অভিহিত করেছে। তারা বলছে, এটি আন্তর্জাতিক আইনের নীতি এবং জাতিসংঘ সনদের ‘চরম লঙ্ঘন’; যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য ‘মারাত্মক হুমকি’।
পডকাস্টের মন্তব্যে তোলপাড়
মার্কিন ধারাভাষ্যকার টাকার কার্লসনের একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি ওই মন্তব্য করেন।
সাক্ষাৎকারে কার্লসন বাইবেলের এক উদ্ধৃতির ব্যাখ্যা নিয়ে হাকাবিকে প্রশ্ন করেন; যে উদ্ধৃতি অনেক সময় ধর্মীয় জাতীয়তাবাদীরা নীল নদ থেকে ইউফ্রেটিস নদী পর্যন্ত ইসরায়েলের সীমানা বিস্তারের দাবিকে জায়েজ করতে ব্যবহার করেন।
এই কাল্পনিক পরিস্থিতির জবাবে হাকাবি বলেন, ‘তারা (ইসরায়েল) যদি পুরোটা নিয়ে নেয়, তাতে সমস্যা নেই।’
পরে তিনি নিজের মন্তব্যকে ‘কিছুটা অতিরঞ্জিত’ বলেন এবং জোর দিয়ে জানান, ইসরায়েল ‘এসব পুরোটা নেওয়ার দাবি করছে না।’
তবে এই ব্যাখ্যা সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
‘অধিকৃত ভূমিতে কোনো সার্বভৌমত্ব নেই’
যৌথ প্রতিক্রিয়ায় আরব ও মুসলিম দেশগুলো অধিকৃত ভূখণ্ডে ইসরায়েলি সার্বভৌমত্বের দাবিকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে।
বিবৃতিতে বলা হয়, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড বা অন্য কোনো অধিকৃত আরব ভূমিতে ইসরায়েলের কোনো প্রকার সার্বভৌমত্ব নেই। একই সঙ্গে পশ্চিম তীর দখল বা এটিকে গাজা উপত্যকা থেকে আলাদা করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
বিবৃতিতে দেশগুলো সতর্ক করে বলেছে, অন্যের ভূমি দখলের বৈধতা দেয়—এমন বক্তব্য ‘সহনশীলতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের’ লক্ষ্যকে ব্যাহত করে উল্টো ‘উত্তেজনা উসকে দেয়’ এবং অস্থিতিশীলতা তৈরি করে।