নির্মীয়মাণ ভবনের লিফটের ফাঁকা স্থানে জমে থাকা পানিতে পড়ে শিশুর মৃত্যুকে ঘিরে রাজধানীর হাতিরঝিল থানার পশ্চিম উলন এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয়রা।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে নির্মীয়মাণ ভবনের লিফটের শ্যাফটে জমে থাকা পানিতে তাহেদী (৮) নামের শিশুটির মরদেহ পাওয়া যায়। তারাবির নামাজের সময় বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা শিশুটিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। একপর্যায়ে পাশের ওই ভবনে তার মরদেহ দেখতে পায় তারা। খবর পেয়ে হাতিরঝিল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
স্বজন ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিপীড়নের পর শিশুটিকে হত্যা করে নির্মীয়মাণ ভবনের লিফটের ফাঁকা স্থানে লাশ ফেলে রাখা হয়। পরিবার মামলা করতে গেলে প্রথমে হাতিরঝিল থানা গড়িমসি করে। পরে এলাকাবাসী থানা ঘেরাও করলে রাত ১১টার দিকে মামলা নেওয়া হয়। শিশুটির বাবা লিটন মিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আন্দোলনের মুখে ভবনের দারোয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।
স্বজনদের দাবি, উদ্ধার করার সময় তাহেদীর মুখে বিস্কুটের গুঁড়া পাওয়া গেলেও পেটে কোনো পানি ছিল না। পানিতে ডুবে মৃত্যু হলে পেট ভর্তি পানি থাকার কথা। এই সন্দেহ থেকেই তারা এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছেন।
এ ছাড়া এলাকাবাসীর অভিযোগ, যে ভবনের নিচে ঘটনা ঘটেছে সেখানে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ চাওয়া হলেও ভবনের মালিক তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে পুলিশকে জানালেও কার্যকর সহায়তা পাওয়া যায়নি। এ ক্ষোভ থেকেই তারা থানার সামনে অবস্থান নিয়েছেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার তিতাস উপজেলার আলীরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা লিটন মিয়ার মেয়ে স্থানীয় একটি মাদরাসার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মঙ্গলবার রাতে খেলতে বের হয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর রাত ১টার দিকে পাশের নির্মীয়মাণ ভবনের লিফটের পানিতে তার মরদেহ পাওয়া যায়। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মর্তুজা বলেন, মরদেহে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে পানিতে পড়ে মৃত্যুর ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা প্রক্রিয়াধীন। কেউ দায়ী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।