বিরল অ্যালবিনো প্রজাতির বহুল আলোচিত মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে সংরক্ষণের জন্য ঢাকার মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় স্থানান্তর করা হয়েছে। মহিষটির নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিচর্যা নিশ্চিত করতে সেখানে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।হরিণ-চিতাবাঘের পাশে অবস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে।
চিড়িয়াখানায় তার জন্য আলাদা বড় শেড তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি সার্বক্ষণিক চিকিৎসা ও পরিচর্যার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। বুধবার দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানান তিনি।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু তার ফেসবুকে লেখেন, “আজ বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমধর্মী ঘটনা যুক্ত হয়েছে। বিরল ‘অ্যালবিনো’ প্রজাতির একটি মহিষ ইতোমধ্যে ঢাকার মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় সংরক্ষণের জন্য আনা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মহিষটির শরীরে ‘মেলানিন’ নামক রঞ্জক পদার্থের স্বল্পতার কারণে এমন গোলাপি বর্ণের বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। পৃথিবীব্যাপী এ ধরনের প্রাণী অত্যন্ত বিরল। পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি ১০ হাজার মহিষের মধ্যে মাত্র একটি এ ধরনের অ্যালবিনো বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্ম নিতে পারে। ফলে এটি শুধু একটি বিরল প্রাণীই নয়, বরং গবেষণা, সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।’
তিনি আরও লেখেন, ‘প্রাণীটিকে নিরাপদভাবে সংরক্ষণ ও সঠিক পরিচর্যার জন্য ঢাকার মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মহিষটির জন্য বড় শেড প্রস্তুত করা হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক চিকিৎসা ও পরিচর্যার বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেছি।’
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘আমি বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছেও অবগত করেছি। তিনি এ ধরনের বিরল প্রাণী সংরক্ষণের উদ্যোগকে গুরুত্ব সহকারে দেখার নির্দেশনা দিয়েছেন এবং দেশের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।’
‘মহিষটির ক্রেতা মনিরুজ্জামানকে তার পশুর ন্যায্য মূল্য প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি কোরবানির জন্য বিকল্প গরুরও ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে তিনি কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন,’ যোগ করেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি লেখেন, ‘বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ, প্রাণিসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। আমাদের বিশ্বাস, বিরল এই অ্যালবিনো মহিষ শুধু দেশের মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুই হবে না, ভবিষ্যৎ গবেষণা ও সংরক্ষণ কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মানুষ, প্রকৃতি ও প্রাণিসম্পদের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে একটি সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য।’
বিরল অ্যালবিনো জাতের এই মহিষটির গায়ের সাদা লোম, চোখের গঠন ও সামগ্রিক অবয়ব অনেকের কাছে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ মনে হওয়ায় এর নাম রাখা হয় ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। খামারের মালিক জিয়াউদ্দিন মৃধার ছোট ভাই আদর করেই নামটি দেন।
নামটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মুহূর্তেই আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের মহিষটি। যদিও ভাইরাল হওয়ার আগেই রাজধানীর জিনজিরা এলাকার এক ক্রেতা সামি ৫৫০ টাকা কেজি দরে এটি কিনে নিয়েছিলেন।
পরে মহিষটিকে একনজর দেখতে প্রতিদিন খামারে ভিড় করতে থাকেন নানা বয়সী মানুষ। অনেকে মহিষটি কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করলেও পরে হতাশ হয়ে ফিরেছেন।
দেশীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলোচনায় উঠে আসে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। বার্তা সংস্থা এএফপি, রয়টার্স, দ্য টেলিগ্রাফ, এনডিটিভি, ব্যাংকক পোস্টসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয় মহিষটিকে নিয়ে প্রতিবেদন