মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে রাজধানীর উত্তরা, দক্ষিণখান ও দূরবর্তী লক্ষ্মীপুরে তিনটি অভিযান চালিয়েছে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ। এসব অভিযানে অপহৃত এক ব্যক্তিসহ নগদ ২৫ লাখ টাকা, ২২ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার ও বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনার শুরু রোববার (১৪ জুন) দিবাগত গভীর রাতে। দক্ষিণখান এলাকার একটি গোপন আস্তানায় এক ব্যক্তিকে জিম্মি করে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে বলে পুলিশের কাছে খবর আসে। খবর পাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ অপহরণকারীদের সেই অন্ধকার আস্তানা ঘিরে ফেলে।
অভিযানে কোনো রকম রক্তপাত ছাড়াই জীবিত উদ্ধার করা হয় অপহৃত আজিবুর রহমানকে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আব্দুল আলিম বাবু, সজিব মিয়া, ময়নুদ্দিন, মহিউদ্দিনসহ চার অপহরণকারীকে। তাদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয় আজিবুরের পরিবারের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া মুক্তিপণের নগদ ২৫ লাখ টাকা।
অপহরণ অভিযানের রেশ কাটতে না কাটতেই প্রতারণা ও কোটি টাকার সম্পদ আত্মসাতের আরেকটি মামলা পুলিশের কাছে আসে। উত্তরা পশ্চিম থানার সাইবার ও ইনভেস্টিগেশন টিম অভিযুক্তের প্রযুক্তিগত তথ্য ও মোবাইল লোকেশন বিশ্লেষণ করতে শুরু করে। ট্র্যাক করে পুলিশ জানতে পারে, মূল অভিযুক্ত রাজধানী ছেড়ে দূরে আত্মগোপনে রয়েছে। পুলিশের আরেকটি দল ছুটে যায় লক্ষ্মীপুর সদর এলাকায়। সেখানে পুলিশের জালে বন্দি হয় ধূর্ত প্রতারক নুর হোসাইন সোহাগ।
সোহাগের গোপন ডেরা থেকে উদ্ধার করা হয় আত্মসাৎ করা প্রায় ২১ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের নয় ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ও অলঙ্কার। এ ছাড়া তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপসহ আরও প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন চোরাই ইলেকট্রনিক সামগ্রীও উদ্ধার করা হয়।
দিনের আলো ফোটার ঠিক আগের মুহূর্তে উত্তরা পাঁচ নম্বর সেক্টরে শুরু হয় পুলিশের শেষ ও তৃতীয় অপারেশন, মাদকবিরোধী ক্র্যাকডাউন। পুলিশ পাঁচ নম্বর সেক্টরের রাস্তা থেকে ধরে ফেলে কথিত মাদক ব্যবসায়ী জামালকে। জামালের শরীর তল্লাশি করে উদ্ধার করা হয় ১৩৯ পিস নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেট, যা সে উত্তরায় খুচরা বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে এসেছিল।
উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হওয়া ছয় জনের বিরুদ্ধে মামলা করে তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।