রাজধানীর পল্লবী এলাকায় অন্ধকার জগতের আধিপত্যের লড়াই রূপ নিয়েছিল এক ভয়াবহ যুদ্ধক্ষেত্রে। প্রকাশ্যে গুলির শব্দ, আতঙ্কে সাধারণ মানুষের ছুটোছুটি, রক্তাক্ত সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল কুখ্যাত সন্ত্রাসী ‘টান আকাশ’।
বুধবার (১০ জুন) পল্লবীর এভিনিউ-৫ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ‘টান আকাশ’ গ্রুপের সঙ্গে ‘ল্যাংড়া রুবেল’ গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মুহূর্তেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র হাতে কয়েকজন ব্যক্তি প্রকাশ্যে গুলি ছুড়তে থাকে। গুলিতে আহত হন হৃদয় ওরফে ‘গন্ডার’। একই ঘটনায় আব্দুল্লাহ নামে এক ব্যক্তিকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় নেমে আসে আতঙ্কের ছায়া। গোলাগুলির ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয় চরম উদ্বেগ।
এ ঘটনার পরপরই মাঠে নামে র্যাব-৪। শুরু হয় প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারি। কয়েকদিনের অনুসন্ধানের পর মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাতে নাটকীয় অভিযানে হেমায়েতপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ‘টান আকাশকে’।
র্যাব হেডকোয়ার্টার জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া টান আকাশ দীর্ঘদিন ধরে পল্লবী ও আশপাশের এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। হত্যা, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একাধিক অপরাধে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যা মামলাসহ মোট ১৩টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বর্তমানে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।