ফুটবল খেলা দেখার সময় বাঁশি বাজানোকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ নিয়ে ডাকা সালিশ বৈঠকে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত ও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের দুজনই স্থানীয় বিএনপি নেতা। রাজধানীর আদাবর থানার নবোদয় কাঁচাবাজারসংলগ্ন ডি-ব্লকের ১ নম্বর সড়কের সামনে বুধবার (১ জুলাই) রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
আদাবর থানা পুলিশ জানায়, গত ২৯ জুন রাতে ব্রাজিল ও জাপানের ফুটবল ম্যাচ দেখার সময় বাঁশি বাজানো নিয়ে বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা হাবিব নবোদয় বাজারের সবজি বিক্রেতা মজনুর ১২ বছর বয়সী ছেলে নীরবকে থাপ্পড় দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে নীরব হাবিবের সঙ্গে গালিগালাজ করে। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতা মনোয়ার হোসেন জীবন ঘটনাস্থলে এসে নীরবকে হাবিবের কাছে ক্ষমা চাইতে বলেন।
এই ঘটনার জেরে ৩০ জুন সন্ধ্যায় একই এলাকায় নীরবের ভাই রিপনের সঙ্গে আদাবর থানার ১০০ নম্বর ওয়ার্ডের নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের হাতাহাতি হয়। পরে সাদ্দাম হোসেন বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় একটি অভিযোগ করেন।
পুলিশ জানায়, ওই বিরোধ মীমাংসার জন্য বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিএনপি নেতা বাদল ভূঁইয়া, হাবিবসহ উভয় পক্ষকে নিয়ে সালিশ বৈঠক বসে। বৈঠকের একপর্যায়ে রাত ৮টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও হাতাহাতি শুরু হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে আট থেকে ১০ জনের একটি দল ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশা গুরুতর আহত হন।
পরে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে দুজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে আবুল বাশার বাদশার মৃত্যু হয়। আহত সাদ্দাম হোসেন বর্তমানে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
নিহত আবুল বাশার বাদশার স্ত্রী স্মৃতি জানান, তার স্বামী পেশায় প্রাইভেটকারচালক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি আদাবরের নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তাদের বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায়। তার বাবার নাম গফুর মিয়া। বর্তমানে পরিবার নিয়ে আদাবর বি-ব্লকের ১ নম্বর সড়কে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
অন্যদিকে আহত সাদ্দাম হোসেনের বাড়ি কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার বেলেংকা গ্রামে। তার বাবা মৃত আব্দুল মালেক। পেশায় তিনিও একজন চালক এবং আদাবর এলাকায় বসবাস করতেন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবুল বাশার বাদশার মৃত্যু হয়েছে। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।