রাজধানীর খিলগাঁওয়ের দক্ষিণ গোরান এলাকার একটি বাসা থেকে সানজিদা আক্তার মারিয়া (১৮) নামের এক কলেজছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি লালমাটিয়া মহিলা কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। শুক্রবার (১০) জুলাই রাত সাড়ে ৮ টার দিকে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মারিয়ার স্বামী সাইফুলকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।
নিহত সানজিদা আক্তার মারিয়ার ভাই মো. চান মিয়া জানান, তার বোন দক্ষিণ গোরান আলিয়া মাদ্রাসা স্কুলের পাশে ভাড়া বাসায় স্বামীর সঙ্গে বসবাস করতেন। প্রায় আট মাস হল তার বিয়ে হয়েছে।
তিনি বলেন, আমার মা আজ সন্ধ্যা থেকে আমার বোনকে কল দেয়। অনেকবার কল দেওয়ার পরও আমার বোনের সাথে কোন যোগাযোগ করতে না পেরে পরে আমার বোনের স্বামী সাইফুলকে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করলে সাইফুল বলে বাসায় গিয়ে আপনার মেয়েকে দেখে আসতে।
মো. চান মিয়া বলেন, পরে আমরা সাইফুলের বাসায় গিয়ে দেখি বাসার কিচেন সংলগ্ন বারান্দার ফ্লোরে মারিয়া অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে। মারিয়ার গলায় একটি দাগও দেখতে পাই। পরে ৯৯৯-এ কল দিয়ে খিলগাঁও থানা পুলিশের সহযোগিতায় রাত সাড়ে ৮ টার দিকে মারিয়া কে উদ্ধার করা হয়।
নিহতের ভাই আরও জানান, রাত ১১:২০ এর দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে এলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সেখানকার চিকিৎসক সানজিদাকে মৃত ঘোষণা করে।
তিনি জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানার নয়নাবাদ পোস্টের হাতকান্দা নয়াপাড়া গ্রামে। বর্তমানে মারিয়া খিলগাঁও থানাধীন দক্ষিণ গোরান এলাকার আলিয়া মাদ্রাসা স্কুলের পাশেই একটি বাসার নিচতলাতে থাকতেন। মারিয়ার স্বামীর নাম সাইফুল। সাইফুলের বাড়ি কুমিল্লা জেলার হোমনা থানায়। মারিয়া লালমাটিয়া মহিলা কলেজের অনার্সের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
খিলগাঁও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মারিয়ার স্বামী সাইফুলকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানান, মরদেহটি ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের জরুরী বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পরে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।