রাজধানীর ভাটারা নতুনবাজার এলাকায় বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৩ জন দগ্ধের ঘটনায় স্বামী ও ছোট্ট ভাগ্নির পর এবার না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন দগ্ধ ফাহিমা আক্তার (২১)।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাত ১০টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, ফাহিমার শরীরের ৪৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। এতে বিস্ফোরণের ওই ঘটনায় দগ্ধ হওয়া তিনজনই মারা গেলেন।
এর আগে শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল ৬টার দিকে তার স্বামী শাহিন (২৪) এবং বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে তাদের ভাগ্নি হাফসা আক্তার (৮) মারা যায়। শাহিনের শরীরের ৫০ শতাংশ এবং হাফসার ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোর ৪টার দিকে নতুনবাজারের ১০০ ফিট সড়ক এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের নিচতলায় জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে শাহিন, তার স্ত্রী ফাহিমা এবং ভাগ্নি হাফসা দগ্ধ হন। পরে তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পর তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা প্রতিবেশী জসিম উদ্দিন জানান, নিহত শাহিন পেশায় কাপড়ের শোরুমে কাজ করতেন। পরিবারসহ তিনি নতুনবাজারের ওই বাসাটিতে ভাড়া থাকতেন। গত মঙ্গলবার ভোরে নতুনবাজারের ওই বাসার নিচতলায় হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। এর পরপর তিনিসহ অন্যরা সেখানে গিয়ে দেখেন, বাসার ভেতরে থাকা শাহিনসহ ৩ জন দগ্ধ হয়েছেন। পরে দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
জসিম উদ্দিন আরও জানান, বাসাটিতে তিতাসের গ্যাসের লাইন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনার রাতে সেই লাইন থেকে গ্যাস লিকেজ হয়ে তা রুমের মধ্যে জমে ছিল। একপর্যায়ে ভোরের দিকে রান্নার জন্য বা অন্য কোনোভাবে ওই বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে।
এদিকে নিহত ফাহিমা আক্তারের চাচি শামীমা সুলতানা জানান, ফাহিমার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায়। তার বাবার নাম গোলাম মোর্শেদ। একমাস আগে নতুনবাজারের ওই বাসাটিতে ভাড়া উঠেছিল শাহিন-ফাহিমা দম্পতি। বাসায় ওঠার সময় তারা ঘরে গ্যাসের গন্ধ পেলে বাড়িওয়ালাকে ডেকে বিষয়টি জানায়। পরবর্তীতে বাড়িওয়ালা গ্যাসের পাইপ মেরামত করে দিয়েছিলেন। তবে এরপর আরও কয়েকবার সেখানে গ্যাসের পাইপে লিকেজ হয়। কিন্তু এরপর সেই পাইপলাইন আর মেরামত করা হয়নি। বাড়িওয়ালার গাফিলতির কারণে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।