ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে মানববন্ধন চলাকালে হামলা হয়েছে। পরে ব্যবসায়ী ও হামলাকারী—দুই পক্ষের মাঝে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, রাজধানীর কারওয়ান বাজার সংলগ্ন কাঁচামালের আড়ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মানববন্ধন চলাকালে হামলার পর ব্যবসায়ীরাও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলাকারীদের তাড়া করেন। এতে দুর্বৃত্তদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়।
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা আব্দুর রহমান ও তার অনুসারীরা ৫ আগস্টের পর থেকে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছে। চাঁদা আদায় বন্ধ করতে এবং আব্দুর রহমানের গ্রেপ্তারের দাবিতে তারা কারওয়ান বাজারে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করছিলেন। এ সময় আব্দুর রহমানের অনুসারীরা অতর্কিত হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন।
পরে বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা ‘চাঁদাবাজের আস্তানা ভেঙে দাও-গুড়িয়ে দাও’, ‘চাঁদাবাজের আস্থানা এ বাংলায় হবে না’—এমন স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ জানান। এ সময় চাঁদাবাজদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবিও জানান ব্যবসায়ীরা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া একজন ব্যবসায়ী জানান, তারা চাঁদাবাজি বন্ধের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন করছিলেন। হঠাৎ ্তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। পাশেই পুলিশ সদস্যরা ছিলেন। তবুও তারা এ হামলা চালায়।
এদিকে তেজগাঁও থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আব্দুল হান্নান জানান, আব্দুর রহমান নামের একজনের বিরুদ্ধে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করছিল। আগেও তারা এমন মানববন্ধন করেছে। আজকের মানববন্ধনের সময় আশপাশে পুলিশও ছিল। হঠাৎ অতর্কিতভাবে কয়েকজন এসে তাদের ব্যানার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটলে পরবর্তীতে তা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় রূপ নেয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
পাশাপাশি পুলিশের তেজগাঁও অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ফজলুল করিম বলেন, এ ঘটনায় যারা আহত হয়েছেন, তাদের থানায় এসে মামলা করতে বলা হয়েছে। এ ঘটনায় সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সদস্য সচিব সাজ্জাদুল মিরাজ গণমাধ্যমকে বলেন, যারা মানববন্ধন করেছেন, তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ব্যবসায়ীদের কমিটিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করা হয়েছে। সেখানে আরেকটি গ্রুপ হামলা করেছে। আর আবদুর রহমানকে বহিষ্কার করা হয়েছিল গণমাধ্যমে একটি বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে। এটা তখন ভুল–বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে হয়েছিল।