গৃহকর্মী নির্যাতন
১১ বছরের এক শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে উত্তরা পশ্চিম থানায় করা মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার আবেদন করেও শেষ পর্যন্ত জবানবন্দি দেননি। তবে এই মামলার অপর আসামি গৃহকর্মী মোছা. সুফিয়া খাতুন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালত সুফিয়ার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত উভয় আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক তাহমিনা আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, ছয় দিনের রিমান্ড শেষে আসামিদের আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর আসামিরা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক রোবেল মিয়া। তবে বিচারকের খাস কামরায় গিয়ে সাফিকুর জবানবন্দি দিতে অস্বীকার করেন। অন্য আসামি সুফিয়া জবানবন্দি দিলে বিচারক তা রেকর্ড করেন এবং পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা মামলার ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এই জবানবন্দি রেকর্ড করা একান্ত প্রয়োজন। মামলার ব্যাপক তদন্ত বর্তমানে অব্যাহত রয়েছে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের জেলহাজতে আটকে রাখা প্রয়োজন।
এর আগে, গত ২ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৩টায় উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে বিমানের সাবেক এমডি সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ১০ ফেব্রুয়ারি আদালত শফিকুর রহমান ওরফে সাফিকুর রহমানের পাঁচদিন, তার স্ত্রী বিথীর সাতদিন ও দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুনের পাঁচদিন ও মোছা. সুফিয়া বেগমের ছয়দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর মধ্যে রুপালী খাতুনকে গত বৃহস্পতিবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, মামলার বাদী একজন হোটেল কর্মচারী। তিনি জনৈক সিকিউরিটি গার্ড জাহাঙ্গীরের মাধ্যমে জানতে পারেন যে সাফিকুর রহমান দম্পতি তাদের বাচ্চার দেখাশোনার জন্য একজন মেয়ে শিশু খুঁজছেন। আসামিরা শিশুটির বিয়েসহ যাবতীয় খরচ বহনের প্রতিশ্রুতি দিলে বাদী গত বছরের জুন মাসে তার মেয়ে মোহনাকে ওই বাসায় কাজে দেন। গত ২ নভেম্বর বাদী তার মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় দেখে এলেও এরপর থেকে আসামিরা আর দেখা করতে দেয়নি।
গত ৩১ জানুয়ারি বিথী ফোন করে মোহনার অসুস্থতার কথা জানালে বাবা তাকে আনতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান মোহনার দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম এবং সে ঠিকমতো কথা বলতে পারছে না। পরে মোহনা জানায়, গত ২ নভেম্বর বাবার সাথে দেখা হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে অকারণে শফিকুর রহমান ও বিথীসহ অন্যরা তাকে মারধর করত এবং গরম খুন্তি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দিয়ে গুরুতর জখম করত। এই ঘটনায় ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।