উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটি (এমআরইউ)-এর উদ্যোগে ‘মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট ফুটবল টুর্নামেন্ট–২০২৬’। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) সংলগ্ন কৃত্রিম টার্ফে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টে দেশের বিভিন্ন শীর্ষ গণমাধ্যমে কর্মরত মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এমআরইউ সভাপতি শাহরিয়ার নাঈম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ ফরিদা খানম। অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিল স্বাধীন বাংলা মাদক বিরোধী সোসাইটি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, ‘সাংবাদিকতা অত্যন্ত দায়িত্বশীল একটি পেশা। প্রতিদিন সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সাংবাদিকরা নিরলসভাবে কাজ করেন। ব্যস্ত কর্মজীবনের মধ্যেও খেলাধুলার মতো ইতিবাচক আয়োজনে অংশগ্রহণ সুস্থ দেহ ও সুস্থ মন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের যথাযথ পরিচর্যা, আধুনিক প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে বিশ্বমানের ফুটবলার তৈরি করা সম্ভব। খেলাধুলা তরুণদের মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখে এবং একটি সুস্থ, সচেতন ও মানবিক প্রজন্ম গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গণমাধ্যম শুধু সংবাদ পরিবেশনই করে না, সমাজকে পথও দেখায়। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে লুকিয়ে থাকা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে তাদের সাফল্যের গল্প তুলে ধরার মাধ্যমে গণমাধ্যম ভবিষ্যতের তারকা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।’
অনুষ্ঠানে সংগঠনটির সভাপতি শাহরিয়ার নাইম বলেন, ‘এই আয়োজনকে আমরা কখনোই শুধু একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট হিসেবে দেখি না। আমাদের কাছে এটি মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকদের এক আন্তরিক মিলনমেলা—যেখানে প্রতিযোগিতার চেয়ে সম্পর্ক, বন্ধুত্ব এবং সৌহার্দ্যই বেশি গুরুত্ব পায়।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যারা সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত, বিশেষ করে মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকরা, তারা প্রতিদিন দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, সময়ের চাপ এবং নানা দায়িত্বের মধ্যে কাজ করি। এই ব্যস্ততার কারণে অনেক সময় পরিবার, বন্ধু কিংবা সহকর্মীদের সঙ্গে মন খুলে সময় কাটানোর সুযোগও হয়ে ওঠে না। সেই ভাবনা থেকেই মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটি (এমআরইউ) শুধু একটি সংগঠন হিসেবে নয়, একটি পরিবারের মতো কাজ করতে চায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকের এই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় অর্জন কোনো দলের জয় বা পরাজয় নয়; বরং আমাদের পারস্পরিক সম্প্রীতি, ঐক্য এবং একে অপরের প্রতি আন্তরিকতা আরও দৃঢ় হওয়া। মাঠে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারি, কিন্তু মাঠের বাইরে আমরা সবাই একই পরিবারের সদস্য, আমরা সবাই মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক।’
টুর্নামেন্টে চারটি দল অংশগ্রহণ করে। প্রথম সেমিফাইনালে ইনফো সোলজার ৫-০ গোলের ব্যবধানে মিডিয়া লেজেন্ডকে পরাজিত করে ফাইনালে ওঠে। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মিডিয়া ওয়ারিয়র্স স্বাধীন বাংলা মাদক বিরোধী সোসাইটিকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে। ফাইনালে মিডিয়া ওয়ারিয়র্স ৫-০ গোলের ব্যবধানে ইনফো সোলজারকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়।
খেলা শেষে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের পাশাপাশি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী সব খেলোয়াড়ের হাতে ট্রফি, সম্মাননা ও পুরস্কার তুলে দেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ এবং এমআরইউ নেতৃবৃন্দ।
বাংলাদেশের শীর্ষ গণমাধ্যমে কর্মরত মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই টুর্নামেন্ট সম্প্রীতি, পেশাগত ঐক্য ও সুস্থ ক্রীড়া সংস্কৃতি বিকাশে একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে প্রশংসিত হয়।