নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করতে গেলে নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা বেলাল মাঝি ও আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টায় উপজেলার চানন্দি ইউনিয়নের প্রকল্প বাজার এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে।
এ সময় হামলার জবাবে হান্নান মাসউদের সঙ্গে থাকা এনসিপির কর্মী-সমর্থকেরা প্রতিবাদ করতে গেলে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। এ সময় এনসিপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে থাকা দশটির বেশি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয় ও তাদের পাঁচজনের মত নেতা-কর্মীকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয় বলে জানিয়েছে এনসিপি।
পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও পুলিশের সামনেই প্রকাশ্যে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলাকারীদের মহড়া দিতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ তার গাড়িবহর নিয়ে প্রকল্প বাজার এলাকায় পৌঁছালে সেখানে আওয়ামী লীগ নেতা বেলাল মাঝি নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কর্মীরা একত্রিত হয়ে গাড়িবহর লক্ষ্য করে গুলি করে ও হামলা চালায়। হামলার মুখে প্রথমে পিছু হটলেও পরবর্তীতে হান্নান মাসউদের নেতৃত্বে এনসিপি কর্মীরা পুনরায় একত্রিত হন। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে একাধিকবার সংঘর্ষ হয়।
জাতীয় যুবশক্তির হাতিয়া উপজেলা আহ্বায়ক মো. ইউসুফ বলেন, ‘পুলিশের উপস্থিতিতে আমাদের উপর এভাবে হামলা করা হয়েছে। অথচ পুলিশ সেখানে নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। প্রশাসনের এমন রহস্যময় ভূমিকা আমাদেরকে অবাক করেছে। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির উপর এভাবে হামলা কোনভাবেই কাম্য নয়। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে আমাদের প্রায় ২০ জন নেতাকর্মীর বাড়িঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়েছে সন্ত্রাসীরা। এসব বিষয়েও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন।’
জানতে চাইলে আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, ‘হামলাকারী সন্ত্রাসী বেলাল মাঝিকে গ্রেপ্তার করা না পর্যন্ত আমি এখান থেকে অবস্থান ছাড়ব না। সে ২০১৮ সালেও সাবেক এমপি ফজলুল আজিমের ওপর হামলা করেছিল।’
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, ‘পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। বিষয়টি সম্পূর্ণ না জেনে কোনো মন্তব্য করব না।’