মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী ও সেখান থেকে আগত সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছেG বিমানবন্দর সূত্র জানায়, রোববার (১ মার্চ) সকালে মোট ১০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এর মধ্যে ৭টি আগমনী এবং ৩টি বহির্গামী ফ্লাইট রয়েছে।
বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে হঠাৎ করেই ফ্লাইটগুলো বাতিল করতে হয়েছে। নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিমানবন্দর সূত্রে আরও জানা গেছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এয়ারফিল্ড ও ফ্লাইট ইনফরমেশন রিজিয়ন (এফআইআর) সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলো তাদের ফ্লাইট বাতিল করেছে।
রোববার সকালে সালাম এয়ারের মাস্কাট-চট্টগ্রাম রুটের ওভি-৪০১ ফ্লাইটটি বাতিল ঘোষণা করা হয়। ফ্লাইটটি সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রামে অবতরণের কথা ছিল। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বহির্গামী ওভি-৪০২ ফ্লাইটটিও বাতিল করা হয়েছে, যা সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে মাস্কাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার নির্ধারিত সময় ছিল।
তবে ব্যতিক্রম হিসেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১৩৫ (ঢাকা–চট্টগ্রাম–জেদ্দা) ফ্লাইটটি রোববার বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে জেদ্দার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। যাত্রীদের সময়মতো উপস্থিত থেকে বোর্ডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এর আগে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) একই কারণে একাধিক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এর মধ্যে ছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১৪৭ (ঢাকা–চট্টগ্রাম–দুবাই), বিজি-১৫১ (ঢাকা–চট্টগ্রাম–শারজাহ) এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বিএস-৩৩৩ (ঢাকা–চট্টগ্রাম–দোহা) বহির্গামী ফ্লাইট।
আগমনী ফ্লাইটের মধ্যে বাতিল করা হয় এয়ার আরাবিয়ার জি৯-৫২০ (শারজাহ–চট্টগ্রাম), ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বিএস-৩৪৪ (দুবাই–চট্টগ্রাম) এবং সালাম এয়ারের ওভি-৪০৩ (মাস্কাট–চট্টগ্রাম) ফ্লাইটসহ অন্যান্য নির্ধারিত ফ্লাইট।
তবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১২২ (মাস্কাট–চট্টগ্রাম–ঢাকা) ফ্লাইটটি মাস্কাট থেকে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সংক্রান্ত পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। নতুন কোনো সিদ্ধান্ত হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটগুলো সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলো কাজ করছে বলেও জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আঞ্চলিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনায় অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকতে পারে।