যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির বাকি সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালি সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তবে তেহরানের এই ঘোষণার পেছনে অনেকগুলো ‘যদি’ এবং ‘কিন্তু’ লুকিয়ে আছে।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান এটি বন্ধ করে দেয়।
এ পরিস্থিতিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) যখন বললেন, যুদ্ধবিরতির বাকি সময়ের জন্য হরমুজ ‘সম্পূর্ণ উন্মুক্ত’ থাকবে, তখন এর প্রকৃত অর্থ কী দাঁড়ায়?
ইরানের এক ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী জাহাজগুলোর এখন থেকে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অনুমতির প্রয়োজন পড়বে।
অন্যদিকে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরেক ইরানি কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী জাহাজসহ সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে যাওয়ার অনুমতি পাবে। তবে কোনো দেশের যুদ্ধজাহাজকে এই পথে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না।
এদিকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণার সময় আরাগচি জোর দিয়ে বলেন, এই পথ দিয়ে পার হওয়া জাহাজগুলোকে ইরানের বন্দর ও সামুদ্রিক সংস্থার পূর্বঘোষিত সমন্বিত রুট অনুসরণ করতে হবে। গত সপ্তাহে রাষ্ট্রীয়ভাবে এই রুটের অনুমোদন দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ওয়াশিংটন ডিসির গবেষণা সংস্থা কুইন্সি ইনস্টিটিউটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পার্সি সিএনএনকে বলেন, ‘আমার মনে হয়, তিনি (ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী) বোঝাতে চেয়েছেন, যেকোনো দেশ এখন এই পথ দিয়ে যেতে পারবে, তবে তাদের নির্দিষ্ট মাশুল দিতে হবে।’
তিনি জানান, এই সুবিধা কেবল আগামী ২২ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতির মেয়াদের জন্যই প্রযোজ্য।
পার্সি মনে করেন, এই পুরো ঘটনা শেষ পর্যন্ত ইরানের জন্য একটি ‘কৌশলগত বিজয়’ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হলে এই অর্জন স্থায়ী রূপ পাবে।