বগুড়ার নন্দীগ্রামে নেতৃত্বের বিরোধকে কেন্দ্র করে কলেজ ছাত্রদল সভাপতি ফিরোজ আহমেদ শাকিলকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। পৌর ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল হাসান পলিনসহ ১০–১৫ জন হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১ মার্চ) রাতে নন্দীগ্রাম শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। আকস্মিক হামলা চালিয়ে শাকিলকে বেধড়ক মারপিটের পর রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে যায় অভিযুক্তরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত ফিরোজ আহমেদ শাকিল শহরের মনসুর হোসেন ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদল সভাপতি এবং পৌর শহরের মাঝগ্রাম মহল্লার শফিকুল ইসলামের ছেলে। হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত রাকিবুল হাসান পলিন একই মহল্লার আব্দুর রউফ স্ট্যালিনের ছেলে। স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন, শাকিল ও পলিনের মধ্যে দলের নেতৃত্ব নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল রয়েছে।
ঘটনার আগে এক তরুণীকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করেন কলেজ ছাত্রদল সভাপতি শাকিল। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেও হামলা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে খবর পেয়ে রাতেই হাসপাতালে যান বগুড়া-৪ আসনের সাংসদ ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্তরা দলের কেউ হলেও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রশ্রয় দেওয়ার সুযোগ নেই। অবশ্যই সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে অঝোরে কেঁদে হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেন আহত শাকিলের মা ফিরোজা বেগম। তিনি বলেন, ‘আমার একটাই সন্তান। এই নৃশংস হামলার বিচার চাই। খুন করার উদ্দেশ্যে পলিন পরিকল্পিতভাবে ছুরি মেরেছে। সন্ত্রাসী পলিনের শাস্তি চাই।’
এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। অভিযোগ সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।