বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় ৯ বছর বয়সী রাইসা মনিকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় প্রধান আসামি কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৮ মার্চ) দিবাগত গভীর রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার অপর আসামি কিশোরের বাবা জালাল সিকদার বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে আত্মসমর্পণ করেন।
বাবুগঞ্জ থানার ওসি শেখ মো. এহতেশামুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘দুজনকেই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।’
এদিকে ঘটনার পরদিন রাইসার ঘর থেকে একটি চিরকুট উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ, যেখানে আত্মহত্যার ইঙ্গিত রয়েছে। তবে সেটি রাইসার নিজের লেখা কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই চিরকুট নিয়েই তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
রাইসার বাবা নজরুল হাওলাদার দাবি করেন, ঘটনার পর তারা ঘর খুঁজে কিছুই পাননি। পরে পুলিশ হঠাৎ একটি কাগজ উদ্ধার করেছে বলে জানায়। তার অভিযোগ, আসামিদের রক্ষা করতেই এই চিরকুট সামনে আনা হচ্ছে।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগেও অভিযুক্ত কিশোর রাইসাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছিল। বিষয়টি জানানো হলেও কোনো সমাধান হয়নি, বরং উল্টো হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
বাবার প্রশ্রয়েই ছেলেটি এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দাবি করেন স্বজনরা। এ কারণের কিশোরের বাবাকে আসামি করা হয়েছে।
গত রোববার দুপুরে উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের দক্ষিণ রাকুদিয়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় শিশুটির শরীরে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পাশের বাড়ির এক নারী চিৎকার করে লোকজন জড়ো করলে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় রাইসাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
প্রথমে তাকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট-এ নেওয়া হলে সেদিন রাতেই তার মৃত্যু হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঢাকায় নেওয়ার পথে অ্যাম্বুল্যান্সে রাইসা ঘটনার বর্ণনা দেয়। তার সেই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে সে বলে, প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে আগুনে পোড়ানো হয়।
ঘটনার পর এলাকায় শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বুধবার মহাসড়ক অবরোধ করেছিল।
অন্যদিকে চিরকুটের সত্যতা, শিশুর মৃত্যুর আগে দেওয়া বক্তব্য এবং আগের অভিযোগ মিলিয়ে তদন্ত এখন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে।