ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এসএসসি ১৯৯৭ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য ঈদ পুনর্মিলনী আয়োজিত হয়েছে। শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার-পরিজনসহ পাঁচ শতাধিক মানুষের অংশগ্রহণে সরকারি নলডাঙ্গা ভূষণ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে রোববার (২২ মার্চ) দিনব্যাপী এ আয়োজন সম্পন্ন হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের দ্বিতীয় দিন সকাল থেকেই সাবেক শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। ঐতিহ্যবাহী এই সরকারি নলডাঙ্গা ভূষণ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে বিদ্যালয়ের ১৯৯৭ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা পুনর্মিলনী উৎসবে অংশ নিয়ে যেন ফিরে পেয়েছিলেন তাদের শৈশবের দিনগুলো। দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে মিলিত হয়ে কর্মজীবনের ক্লান্তি ভুলে যান তারা। পুরোনো স্মৃতিকে নতুন করে ধারণ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন ক্যামেরায়। প্রাণের এই শিক্ষাঙ্গনে একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও কোলাকুলির মাধ্যমে বন্ধুত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়।
সাবেক শিক্ষার্থীরা জানান, আমরা শৈশব-কৈশোরের স্মৃতির টানে এখানে ছুটে এসেছি।
সভাপতির বক্তব্যে পৌরসভার সাবেক মেয়রের ছেলে কামরুজ্জামান কমল বলেন, ‘এ ধরনের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেলবন্ধন তৈরি হয় এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্য আরও দৃঢ় হয়। এই ব্যাচটি বন্ধুত্বের টানে ও শৈশবের স্মৃতি রোমন্থনে ব্যতিক্রমধর্মী মিলনমেলার আয়োজন করেছে। আমাদের ব্যাচের অনেকেই দেশ-বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন।’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অবদানের জন্য বিশিষ্টজনদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী সাবেক শিক্ষার্থীদের উপহার হিসেবে ব্যাগ প্রদান করা হয়। এছাড়া বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, প্রীতিভোজ, বালিশ খেলা, চেয়ার খেলা, হাঁড়ি ভাঙা প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে স্থানীয় শিল্পীরা পরিবেশনা করেন।
বিকাল ৫টায় ভূষণ ক্যাম্পাস থেকে এক বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন স্থান প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় বন্ধুদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন ডা. আবু সাঈদ, মো. কামরুজ্জামান কমল, মো. সাইফুল ইসলাম ও আব্দুস সামাদসহ অনেকে। এছাড়া স্মৃতিচারন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটিকে উদযাপন করা হয়।
অনুষ্ঠান চলাকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মোহাম্মদ কামরুজ্জামান কমল আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, আধুনিক ও সমৃদ্ধ কালীগঞ্জ গড়ার লক্ষ্যে তিনি কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।