সাতক্ষীরায় মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল সংগ্রহের ক্ষেত্রে বিতর্কিত ‘ফুয়েল কার্ড’ পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত থেকে শেষ পর্যন্ত সরে এলো জেলা প্রশাসন। বুধবার (২৫ মার্চ) রাতে এই নির্দেশ জারি করার পর জনমনে তীব্র সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। পরে বৃহস্পতিবারই এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় তারা।
জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, মোটরসাইকেলে তেল নিতে জেলা প্রশাসকের সিল ও স্বাক্ষরযুক্ত ফুয়েল কার্ড প্রদর্শন বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ চালকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা একে বাড়তি ভোগান্তি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হিসেবে আখ্যা দেন।
জনবিক্ষোভের মুখে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে জেলা প্রশাসন পরে জানায়, মোটরসাইকেলে তেল নিতে ফুয়েল কার্ডের প্রয়োজন হবে না। জেলা তথ্য অফিসার জাহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জেলা প্রশাসক আগের জারি করা কার্ড সংক্রান্ত ধারাটি বাতিল করেছেন। বৈধ কাগজপত্র থাকলেই চালকরা পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করতে পারবেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রিপন বিশ্বাস বলেন, ‘জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়ায় আমরা সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহার করে নিয়েছি।’
এদিকে ফুয়েল কার্ড পদ্ধতি বাতিল হলেও অন্যান্য প্রশাসনিক নির্দেশনা অপরিবর্তিত রয়েছে। এখন থেকে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে হবে। তেল নেওয়ার সময় চালকের সঙ্গে বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন ও ট্যাক্স টোকেন থাকা এবং হেলমেট পরিধান করা বাধ্যতামূলক।
এ ছাড়া প্লাস্টিকের বোতল, ড্রাম বা অন্য কোনো কন্টেইনারে জ্বালানি তেল বিক্রি এবং অনুমোদিত স্টেশন ছাড়া খোলা বাজারে কেনাবেচা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।