চলমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, ঐক্য ও সহমর্মিতার বার্তা দিচ্ছে বিএনপি; ৬ আগস্ট বিজয় মিছিল ঘিরে বড় পরিকল্পনা
বর্তমানে মাঠের রাজনীতিতে সরাসরি নামছে না বিএনপি। দলটি এখন ২৪ জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান স্মরণে ঘোষিত ৩৬ দিনব্যাপী সাংগঠনিক কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ সত্ত্বেও তাৎক্ষণিকভাবে বড় কর্মসূচিতে না গিয়ে বিএনপি ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য এবং জাতির ঐক্যবদ্ধতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের কথিত ‘পতিত তৎপরতা’, সচিবালয়ে হামলার ঘটনা এবং গোপালগঞ্জের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সক্ষমতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
এমন প্রেক্ষাপটে গত মঙ্গলবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতসহ ১৭টি দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সরকারের ব্যর্থতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন নেতারা।
ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য জোরদার করার আহ্বান জানান ড. ইউনূস এবং মাঠের কর্মসূচির সম্ভাবনার বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান,
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে, এখনই মাঠের কর্মসূচিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই।
বিএনপি জানায়, ৬ আগস্ট ঢাকায় ‘বিজয় মিছিল’-কে স্মরণকালের বৃহৎ জনসমাগমে পরিণত করতে চায় তারা। তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিভিন্ন সাংগঠনিক বৈঠকে কর্মসূচির দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
তবে বিমানবাহিনীর সাম্প্রতিক দুর্ঘটনা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে পূর্বঘোষিত কিছু কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে।
তারেক রহমান এক বিবৃতিতে বলেন, “শোকের এই মুহূর্তে শান্ত ও সংহত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। কেউ যেন শোকাবহ পরিস্থিতিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করে।”
জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলোও ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য ধরে রাখার পক্ষে মত দিয়েছে। মাঠের কর্মসূচি এখন না দিলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় ভবিষ্যতে তা বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন দলগুলোর নেতারা।