লিবিয়া থেকে সাগরপথে ইউরোপে যাওয়ার সময় গ্রিস উপকূলে নৌকাডুবিতে অন্তত ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশি বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে ১০ জনই সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা।
নিহতদের মধ্যে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার পাঁচজন রয়েছেন। তারা হলেন— পাইলগাঁও গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে আমিনুর রহমান (৩৫), টিয়ারগাঁও গ্রামের আকলিফ মিয়ার ছেলে শায়ক মিয়া (২০), পৌর এলাকার কবিরপুর গ্রামের দুলন মিয়ার ছেলে নাঈম মিয়া (২২), ইছগাঁও গ্রামের বাছির হোসেনের ছেলে আলী হোসেন (২৫) এবং বাউরি গ্রামের সামসুল হকের ছেলে ইবাদত হক সুহানুর (২২)।
নিহতদের মধ্যে দিরাই উপজেলার চারজন হলেন— তারাপাশা গ্রামের আবু সর্দারের ছেলে মো. নুরুজ্জামান সর্দার ময়না (৩০), একই গ্রামের মৃত ক্বারী ইসলাম উদ্দীনের ছেলে মো. সাহান (২৫), আব্দুল গণির ছেলে মো. সাজিদুর রহমান (২৮) এবং রনারচর গ্রামের মুজিবুর রহমান (৪০)। এছাড়া দোয়ারাবাজার উপজেলার কবিরনগর গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে ফাহিম আহমেদ মুন্না (২০) নিহত হয়েছেন। দিরাই উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের তারেক (২২) নামের আরও একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
একই নৌকা থেকে ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ২১ জনই বাংলাদেশি। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মাধ্যমে জানা গেছে, নিহতদের অনেকের মরদেহ পরে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে প্রাণে বেঁচে যাওয়া কিশোরগঞ্জের এক যুবক জানান, ‘বড় নৌকার কথা বলে আমাদের ছোট একটি নৌকায় তোলা হয়। ওই নৌকায় পাঁচজন সুদানের নাগরিক ও ৩৮ জন বাংলাদেশি ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৮ জন মারা গেছেন। মরদেহ দুই দিন নৌকায় রাখার পর পচন ধরায় সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। লবণাক্ত পানিতে আমাদের অবস্থাও খুব খারাপ হয়ে পড়ে।’
নিহত নুরুজ্জামান সর্দার ময়নার মামা উমেদ আলী জানান, নৌকায় থাকা একজন ফোনে ময়নার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দিরাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের মুজিবুর রহমান নামে এক দালালের সঙ্গে জনপ্রতি প্রায় ১২ লাখ টাকায় চুক্তি করে তারা লিবিয়া হয়ে গ্রিস যাওয়ার উদ্যোগ নেন। চুক্তি অনুযায়ী বড় ও নিরাপদ নৌকায় যাত্রার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাদের ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় তোলা হয়।
দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকার বলেন, গ্রিসগামী পথে সাগরে দিরাই উপজেলার চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের মধ্যে তিনজন কুলঞ্জি ইউনিয়নের এবং একজন রাজানগর ইউনিয়নের বাসিন্দা।
জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে নিহতদের মধ্যে জগন্নাথপুরের কয়েকজন রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিষয়টি যাচাই করে দেখা হচ্ছে।’