কুষ্টিয়ায় হঠাৎ করেই বেড়েছে হামের প্রাদুর্ভাব। এতে জনমনে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত দুই সপ্তাহে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ও কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এরমধ্যে ৬১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই শিশু।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ১৯ জন এবং কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪২ জন হাম আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রোগীর সংখ্যা প্রতিদিন বাড়তে থাকায় চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন নার্স ও চিকিৎসকরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতালের ওয়ার্ডের পাশাপাশি হামের জন্য আলাদা ‘হাম কর্নার’ খোলা হয়েছে। তবে শয্যা সংকটের কারণে অনেক শিশুকে সাধারণ ওয়ার্ডেই নিতে হচ্ছে চিকিৎসা।
চিকিৎসকদের মতে,টিকাদানে অভিভাবকদের অসচেতনতার জন্য এ রোগের সংক্রমণের একটি অন্যতম কারণ। জেলায় বেশ কয়েক বছর পর আবারও হামের এমন প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. আবু সালেহ মো:মুসা কবির নাগরিক প্রতিদিনকে জানান, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা শ্বাসনালীর মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সময়মতো টিকা না নিলে শিশুদের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।
সদর উপজেলার আলামপুর থেকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসা তিন মাস বয়সী ওরহান নামে এক শিশুর মা নাজনীন আক্তার নাগরিক প্রতিদিন-কে জানান, তিন দিন আগে তিনি ছেলেকে ভর্তি করেন। প্রথমে ছেলের জ্বর হয়। চার দিন ছিল। এরপর সারা শরীরে ছোট ছোট র্যাশে ভরে যায়। পরে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এখন কিছুটা ভালো আছে।
কুমারখালী থেকে কু্ষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আসা আয়ান নামে এক শিশুর মা অন্তরা খাতুন নাগরিক প্রতিদিন-কে জানান, তার ছেলেকে চার দিন আগে ভর্তি করেছেন। একটা সিরিঞ্জও হাসপাতাল থেকে দেয় না। সব ওষুধ বাইরে থেকে কেনা লাগছে। এমনকি ফার্মেসিতে ওষুধ পেতে বেগ পেতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের দায়িত্বরত নার্স কামরুন্নাহার নাগরিক প্রতিদিন-কে বলেন, পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। স্টোর কক্ষের কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে। কোনো কিছু পাওয়া যাচ্ছে না।
কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা.হোসেন ইমাম নাগরিক প্রতিদিন-কে বলেন, হামে আক্রান্ত ১৯ জন রোগী ভর্তি আছে। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে অক্সিজেন সাপোর্ট আছে। তবে কোনো ভেন্টিলেশন সাপোর্ট নেই। তিনজন চিকিৎসক ও তিনজন নার্সের তত্ত্বাবধানে রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে।
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. আনোয়ারুল কবীর নাগরিক প্রতিদিন-কে বলেন, ‘প্রতিদিনই নতুন নতুন রোগী আসছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা বিশেষায়িত ওয়ার্ড তৈরির উদ্যোগ নিয়েছি। তবে রোগীর অস্বাভাবিক চাপের কারণে আমাদের বেশ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে ‘
এদিকে,সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে শিশুদের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ কথা জানাচ্ছেন জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।