পঞ্জিকার পাতায় এপ্রিলের শুরু মানেই সুন্দরবনের মৌয়ালদের ব্যস্ততা। ঘরবাড়ি ছেড়ে কয়েক মাসের জন্য গহিন বনে মধু সংগ্রহে যাওয়ার প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। কিন্তু এবারের প্রস্তুতিতে আনন্দের চেয়ে উৎকণ্ঠাই বেশি। এবার মৌয়ালদের চোখেমুখে বাঘের ভয়ের চেয়েও বড় হয়ে দেখা দিয়েছে বনদস্যু আতঙ্ক।
গত কয়েক বছরে দস্যু দমনে সাফল্য থাকলেও, সম্প্রতি গহিন অরণ্যে নতুন করে দস্যুবাহিনীর আনাগোনার খবরে মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের মৌয়াল জালাল গাজী বলেন, গত কয়েক বছর বন দস্যুমুক্ত থাকলেও সম্প্রতি সাতক্ষীরা রেঞ্জের গভীরে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে দস্যুবাহিনী। মুক্তিপণ আর চাঁদাবাজির ভয়ে অনেক অভিজ্ঞ মৌয়াল এবার বনে যেতে সাহস পাচ্ছেন না।
বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের মৌয়াল বায়েজিদ হোসেন বলেন, বাপ-দাদার আমল থেকে মধু কাটি। বাঘের ভয় তো আছেই, কিন্তু এখন শুনি আবার ডাকাত নামছে। বনে গিয়ে যদি জান নিয়ে ফিরতে না পারি, তবে পরিবার খাবে কী? সরকার নিরাপত্তা না দিলে এবার মধু অনেক কম হবে।
এদিকে ২০২৬ মৌসুমে সুন্দরবন থেকে প্রায় ৩ হাজার কুইন্টাল মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বনবিভাগ। তবে দস্যু আতঙ্কে পাসের (বিএলসি) সংখ্যা গত বছরের তুলনায় কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে সরকারের রাজস্ব আদায়ে।
অবশ্য বনবিভাগ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, বনজীবীদের নিরাপত্তায় জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছে। গহিন বনে টহল বাড়ানোর পাশাপাশি বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।
সুন্দরবনের এই মধু মৌসুম ঘিরে উপকূলীয় কয়েক হাজার পরিবারের ভাগ্য জড়িত। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে সরকার-এমনটাই প্রত্যাশা সবার।