সম্প্রতি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দল কর্তৃক আয়োজিত একটি মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের উপজাতি জনগোষ্ঠীদের ‘আদিবাসী’ ও ‘Son Of Soil’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। বক্তব্যটি পার্বত্য চট্টগ্রামে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। উক্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক স্পর্শকাতর ও সংবেদনশীল শব্দ ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বনে মন্ত্রী এবং দেশের সর্বস্তরের নাগরিকদের নিকট বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে বিবৃতি দিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি)-এর কেন্দ্রীয় কমিটি।
বিবৃতিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে যেসব বিষয় তুলে ধরা হয় সেগুলো পয়েন্ট আকারে তুলে ধরা হলো- সাংবিধানিক অবস্থান: বাংলাদেশের সংবিধানে ‘আদিবাসী’ শব্দের কোনো অস্তিত্ব নেই। সংবিধানের ১৫তম সংশোধনী অনুযায়ী বাংলাদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের ‘উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এমনকি ‘পার্বত্য শান্তি চুক্তিতেও’ কোথাও আদিবাসী শব্দটির উল্লেখ নেই।
সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি: জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক ঘোষণা (ILO Convention 169) অনুযায়ী, কোনো জনগোষ্ঠীকে আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দিলে তারা নিজেদের ভূমি, সম্পদ, ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর একচ্ছত্র অধিকার এবং আলাদা স্বায়ত্তশাসনের দাবি রাখতে পারে। এটি একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের অখণ্ডতার জন্য সরাসরি হুমকি এবং বিদ্যমান ‘তফসিলি উপজাতি’ (Scheduled Tribes) ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
আইনি ও আন্তর্জাতিক বাস্তবতা: বিশ্বের ১৮৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশসহ ১৬০টি দেশই এই বিতর্কিত ILO Convention-এ স্বাক্ষর করেনি। বাংলাদেশে কোনো আদিবাসী জনগোষ্ঠী নেই, বরং সবাই বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী/উপজাতি পরিচয়ে পরিচিত। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বসবাসকারী বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলোর ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, তারা ওই অঞ্চলের অকৃত্রিম ভূমিপুত্র বা আদিবাসী নয়। আমরা মনে করিয়ে দিতে চাই, বাঙালির ইতিহাস এই অঞ্চলে ৩ হাজার বছর আগের ইতিহাস। স্বাধীন বাংলা সুলতানাত (১৩৫২-১৫৭৬) স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র ছিল। এই সময় শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ, আলাউদ্দিন হোসেন শাহ এই অঞ্চল শাষণ করেছে। ১০৭০-১২৩০ সেন রাজবংশ বঙ্গ অঞ্চল শাষন করেছে। পাল সম্রাজ্য ৭৫০-১১৬১ প্রতিষ্ঠাতা গোপাল, এই সময় বাঙালি বৌদ্ধ রাজারা উক্তর ভারত ও বাংলা শাষন করেছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) মনে করে, শব্দটির ব্যবহার পাহাড়ে বিচ্ছিন্নতাবাদকে উসকে দিতে পারে এবং রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। তাই ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গসহ গণমাধ্যম ও সর্বস্তরের সাধারণ জনগণকে শব্দটির ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানানো হচ্ছে।