সাতক্ষীরা জেলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন ‘তেলের সরবরাহ নেই’ বলে তেল দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এই সুযোগে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কালোবাজারে চড়া দামে তেল বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে, বোরো মৌসুমের ভরা সময়ে ডিজেল না পাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সাধারণ কৃষকরা।
জেলায় বর্তমানে বোরো ধানের সেচ মৌসুম চলছে। সেচ পাম্প চালানোর জন্য ডিজেল অপরিহার্য হলেও পাম্পগুলোতে তা পাওয়া যাচ্ছে না। কৃষকরা ড্রাম নিয়ে এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ঘুরেও তেল সংগ্রহ করতে পারছেন না। ফলে জমিতে সেচ কাজ ব্যাহত হচ্ছে। অনেক এলাকায় কৃষকরা বাধ্য হয়ে কালোবাজার থেকে প্রতি লিটার ডিজেলে ২০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দামে কিনছেন। এতে চাষাবাদের খরচ বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।
শহর ও গ্রামের ছোট ছোট দোকানে পেট্রোল লিটার প্রতি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। অথচ সরকার নির্ধারিত দামের অর্ধেক। মোটরসাইকেল চালক ও ছোট যানবাহনের মালিকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাচ্ছেন না। অনেক চালক অভিযোগ করেছেন, পাম্প মালিকরা সাধারণ ক্রেতাদের তেল না দিয়ে গোপনে মজুদ করে বেশি দামে ড্রামে ভরে কালোবাজারে বিক্রি করছেন।
জ্বালানি তেলের অভাবে সড়কে গণপরিবহনের সংখ্যা কমে গেছে। যেসব ইজিবাইক বা ভ্যান চলছে, তারা তেলের বাড়তি দামের অজুহাতে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছে। এতে সাধারণ যাত্রীদের নাভিশ্বাস উঠেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে। ইতিমধ্যে কালিগঞ্জ ও আশাশুনি উপজেলায় অবৈধভাবে তেল মজুতের দায়ে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীকে জেল ও জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া দেবহাটায় ৭ হাজার লিটার পেট্রোলসহ একটি তেলের লরি আটক করেছে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং কেউ তেল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।