চুরির ঘটনায় ভেঙে পড়েছে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের অত্যাধুনিক সিগন্যাল ব্যবস্থা। কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে ট্রেন চলাচল পরিচালিত হচ্ছে পুরনো ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে। এতে ট্রেনের গতি কমে যাওয়ার পাশাপাশি বেড়েছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পটিতে আধুনিক ইন্টারলকিং ও স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালিং ব্যবস্থা থাকলেও বর্তমানে তা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। মুন্সিগঞ্জের নিমতলা স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, স্টেশন মাস্টারের কক্ষে থাকা কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত সিস্টেম বিকল হয়ে আছে। ট্রেন চলাচলের তথ্য আদান-প্রদান করা হচ্ছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এবং চালকদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে লিখিত নির্দেশনা।
নিমতলা স্টেশনের মাস্টার গয়েশ্বর মল্লিক বলেন, সিগন্যালের প্রায় সব যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে গেছে। ফলে এখন এক লাইনে একটি ট্রেন চলতে পারছে, কোনো ক্রসিং সম্ভব হচ্ছে না।
রেল কর্মকর্তারা জানান, এই রুটে স্থাপিত প্রায় ১৩-১৪টি সিগন্যাল ভেঙে চুরি করা হয়েছে। রেললাইনের পাশে থাকা সিগন্যাল বক্স, সংযোগ ক্যাবল, রিলে সিস্টেমসহ গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ উধাও হয়ে গেছে। ফলে, বর্তমানে কোনো সিগন্যাল কার্যকর নেই।
এ অবস্থায় ট্রেন চালাতে গিয়ে শতবর্ষ পুরনো ব্রিটিশ আমলের পদ্ধতির আশ্রয় নিতে হচ্ছে। পয়েন্টসম্যানরা সবুজ পতাকা নেড়ে চালকদের সংকেত দিচ্ছেন এবং লোহার রিংয়ে বার্তা বেঁধে হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে নির্দেশনা। রোদ, বৃষ্টি বা ঝড়— সব পরিস্থিতিতেই এই ঝুঁকিপূর্ণ প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
চালকরা জানিয়েছেন, ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ট্রেন ছাড়তে সময় বেশি লাগছে। পয়েন্ট সেটিংয়ে ভুলের আশঙ্কা থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে।
ঢাকা বিভাগীয় রেলওয়ের সিগন্যাল রক্ষণাবেক্ষণ কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন বলেন, সিগন্যাল ব্যবস্থা ইতোমধ্যেই ভেঙে পড়েছে। দ্রুত চুরি রোধ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে ট্রেন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
রেল কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, চুরি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই রেল সংযোগ প্রকল্প পুরোপুরি নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়বে।