কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে আবারও একটি ৮ ফুট লম্বা মৃত ডলফিন ভেসে এসেছে। সৈকতের পশ্চিম পাশে জোয়ারের পানির সঙ্গে ভেসে আসা ডলফিনটির শরীরের বেশিরভাগ অংশের চামড়া উঠে গেছে এবং পেট ফেটে গেছে। দড়ি দিয়ে লেজ বাঁধাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। স্থানীয় আব্দুল জলিল প্রথম ডলফিনটি দেখতে পান এবং পরে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি ইরাবতী ডলফিন, যার মাথা গোলাকার এবং সাধারণ ডলফিনের মতো লম্বা ঠোঁট থাকে না। এ প্রজাতির ডলফিন সাধারণত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অগভীর উপকূলীয় জল ও বড় নদীগুলোতে বসবাস করে। এটি একটি বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে পরিচিত এবং সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা আমাদের জন্য অশনি সংকেত। ডলফিনের মৃত্যু উপকূলীয় পরিবেশের অবনতির ইঙ্গিত দেয়। দ্রুত কারণ অনুসন্ধান করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’
উপকূল পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনের উপরা যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন রাজু বলেন, ‘বারবার মৃত্যু ডলফিন ও কচ্ছপ ভেসে আসা প্রমাণ করে যে আমাদের সামুদ্রিক পরিবেশ হুমকির মুখে। অনিয়ন্ত্রিত মাছ ধরা, প্লাস্টিক দূষণ ও নৌযানের অসচেতন চলাচলের জন্য দায়ী হতে পারে।’
বনবিভাগ মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, ডলফিনটির মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। উপকূলীয় এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং স্থানীয়দের সচেতন করতে কাজ চলছে।
পরে ডলফিন রক্ষা কমিটি, কুয়াকাটা পৌরসভা, বনবিভাগ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘উপরা’র সদস্যরা যৌথভাবে মৃত ডলফিনটিকে মাটি চাপা দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটতে থাকলে তা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। তাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।