সিরাজগঞ্জে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা এবং রেডিস ইন্টার্ন হোস্টেলে বখাটেদের অনুপ্রবেশের প্রতিবাদে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ১১টায় শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সামনে ইন্টার্ন ডক্টরস এসোসিয়েশন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা এ কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
এর আগে গত ১ এপ্রিল শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিশু বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর রোগীর স্বজনরা আকস্মিকভাবে শারীরিক হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় চিকিৎসকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
অবস্থান কর্মসূচিতে ইন্টার্ন ডক্টরস এসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. তামিম হাবিব হিমেল বলেন, ‘হাসপাতালে কর্তব্যরত একজন ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর এ ধরনের ন্যাক্কারজনক হামলা অত্যন্ত লজ্জাজনক ও উদ্বেগজনক। একটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না থাকলে সেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’ পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে ইন্টার্ন ও জুনিয়র চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘একজন ইন্টার্ন চিকিৎসক হিসেবে আমরা দিন-রাত নিরলসভাবে রোগীদের সেবা দিয়ে থাকি। সীমিত জনবল, অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাব সত্ত্বেও আমরা মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি। কিন্তু, আমাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক হামলা হলে তা শুধু কষ্টদায়কই নয়, বরং ভীতিকর ও হতাশাজনক।
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ ও প্রস্থানে পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ নেই। ফলে খুব সহজেই বহিরাগত ও দুস্কৃতিকারীরা হাসপাতালে প্রবেশ করতে পারছে। ইন্টার্নদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক গেট পাস সিস্টেম চালুর দাবি জানান তিনি।
এদিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত হামলার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান আন্দোলনকারীরা।
কর্মসূচিতে ইন্টার্ন চিকিৎসক, শিক্ষার্থীসহ হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।