দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি তেল নিয়ে অস্থিরতার মধ্যেও সিলেটের ফিলিং স্টেশনগুলোতে পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বাভাবিক রয়েছে। তেল সংগ্রহে তেমন কোনো হুড়োহুড়ি নেই, নেই দীর্ঘ লাইনের দৃশ্যও। অবৈধ মজুদের ঘটনাও খুব একটা চোখে পড়েনি।
তবে চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় প্রশাসনের কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন পাম্প মালিকরা। তাদের অভিযোগ, আগের বছরের তুলনায় তেলের চাহিদা বেড়েছে, কিন্তু সেই অনুযায়ী সরবরাহ বাড়েনি। এছাড়া ফিলিং স্টেশনগুলোতে ট্যাগ অফিসার নিয়োগকে তারা অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক তৎপরতা হিসেবে দেখছেন।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, সিলেট শাখার সভাপতি রিয়াসাদ আজিম আদনান বলেন, গত বছরের চেয়ে বেড়েছে যানবাহন, একই সাথে বেড়েছে চাহিদাও। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না বাড়ালে ভবিষ্যতে সংকট আরও তীব্র হতে পারে।
অন্যদিকে ডিপো কর্তৃপক্ষ বলছে, চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে।
পদ্মা অয়েল লিমিটেডের সিনিয়র মার্কেটিং অফিসার আবু শাকিল জানান, বর্তমানে সিলেটের ডিপোগুলোতে পর্যাপ্ত তেল মজুদ রয়েছে। সংকটের কোন আশঙ্কা নেই। সরকারের নির্ধারিত নিতি অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে।
সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির সিও লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হক জানান, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় এড়াতে ডিপোগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় তেল পাচার ও অবৈধ মজুদ ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
যেকোনো ধরনের অপপ্রচার ও বিশৃঙ্খলা রোধে মাঠে সক্রিয় রয়েছে পুলিশও। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আন্দুল কুদ্দুছ জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে। তেলপাচার রোধে বিভিন্ন জায়গায় সাদা পোশাকে নজরদারি বাড়ানোর কথাও জানান তিনি।
সিলেটবাসীর আশা, দ্রুতই পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল থাকবে এবং বড় ধরনের কোনো সংকট তৈরি হবে না।