চট্টগ্রাম বন্দর
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হলেও বাংলাদেশে আমদানি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় যুদ্ধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত ১২টি জ্বালানিবাহী জাহাজ দেশে পৌঁছেছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় পৌছাবে আরও দুটি তেলবাহী জাহাজ।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানায়, মালয়েশিয়া থেকে আসা মার্শাল আইসল্যান্ডের পতাকাবাহী ‘এমটি সেন্ট্রাল স্টার’ জাহাজে ২৬ হাজার টন অকটেন এবং ‘এমটি ইস্টার্ন কুইন্স’ জাহাজে ২৫ হাজার টন ফার্নেস অয়েল রয়েছে। উভয় জাহাজই বুধবার বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
সংঘাত শুরুর পর দেশে মোট প্রায় চার লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি হয়েছে। পাশাপাশি ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে এসেছে আরও ২২ হাজার টন ডিজেল। তবে পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত আটটি জাহাজ, যাতে প্রায় ৩ লাখ ৮৫ হাজার টন জ্বালানি থাকার কথা ছিল, এখনো দেশে পৌঁছাতে পারেনি। এতে সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এতে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি আমদানিতে ঝুঁকি তৈরি হয়।
যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম জাহাজ ‘এমটি ওরিয়েন্টাল গ্রিনস্টোন’ ৩ মার্চ ৩২ হাজার টন ডিজেল নিয়ে দেশে আসে। সর্বশেষ গত রোববার ‘এমটি শান গ্যাং ফা জিয়ান’ ৩৪ হাজার টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রামে পৌঁছায়।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মার্চের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০টি জ্বালানিবাহী জাহাজ বন্দরে এসেছে এবং এসব জাহাজ খালাসে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে অপরিশোধিত তেল আমদানি ব্যাহত হওয়ায় দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি-তে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বর্তমান মজুদ দিয়ে সর্বোচ্চ ১০ দিন উৎপাদন চালু রাখা সম্ভব হবে বলে জানা গেছে।
বিপিসি কর্মকর্তারা আশা করছেন, বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহ শুরু হলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসবে।