ঋতু পরিবর্তনের প্রভাবে সাতক্ষীরায় ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে শিশুদের সর্দি-জ্বর, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার প্রকোপ। গত ২৪ দিনে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে প্রায় দেড় হাজার শিশু রোগী। ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি রোগী আসায় দেখা দিয়েছে তীব্র শয্যা সংকট। বেড না পেয়ে হাসপাতালের বারান্দা আর মেঝেতে বিছানা পেতেছেন অভিভাবকরা। কারও কোলে সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত শিশু, কেউবা লড়ছে নিউমোনিয়া আর ডায়রিয়ার সঙ্গে।
হাসপাতালের তথ্য বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ২৪ দিনে নিউমোনিয়া ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১৩২ জন শিশু। একই সময়ে ডায়রিয়া নিয়ে এসেছে আরও ২৪২ জন। বর্তমানে ধারণক্ষমতার বাইরে গিয়ে শিশু ওয়ার্ডে ৬৭ জন এবং ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ২২ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে।
তালা উপজেলার ইসলামকাটি গ্রামের সবুজ গাজী জানান, তাঁর পাঁচ বছরের ছেলে মাহিম হুসাইন জ্বর ও খিঁচুনিতে আক্রান্ত হলে দ্রুত হাসপাতালে আনেন।কিন্তু বেড না পেয়ে তিন দিন ধরে বারান্দাতেই থাকতে হচ্ছে তাদের।একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানান আটুলিয়া গ্রামের শরিফুল ইসলামও, যার মেয়েও শয্যা ছাড়াই চিকিৎসা নিচ্ছে।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. রিয়াদ হাসান বলেন, ‘মূলত ঋতু পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে আবহাওয়ার চরম অস্থিরতা ও তাপমাত্রার ঘন ঘন তারতম্যই শিশুদের অসুস্থতার প্রধান কারণ। আমরা লক্ষ্য করছি, অনেক অভিভাবকই প্রাথমিক লক্ষণগুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না, যার ফলে রোগটি জটিল আকার ধারণ করার পর তারা হাসপাতালে আসছেন। সঠিক সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে নিউমোনিয়া বা ডায়রিয়ার মতো জটিলতা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।’
অন্যদিকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. শামছুর রহমান সতর্ক করে বলেন, এখনই সচেতনতা বাড়ানো না গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তন থেকে শিশুদের রক্ষা করা, রোদ থেকে এসে সরাসরি ঠান্ডা পরিবেশ বা পানি এড়িয়ে চলা, নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, এবং পুষ্টিকর খাবার ও ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফল খাওয়ানো জরুরি। এছাড়াও উচ্চ জ্বর, শ্বাসকষ্ট বা খিঁচুনি দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সীমিত সক্ষমতার মধ্যেও তারা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময়ে অভিভাবকদের সচেতনতাই শিশুদের সুরক্ষার সবচেয়ে বড় ভরসা।