দিনাজপুরে বাংলাদেশ রেলওয়ের গোডাউন থেকে রেললাইনের কাটা অংশ চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় এক অটোরিকশাচালককে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় চুরি হওয়া মালামালও জব্দ করা হয়। তবে অটোরিকশায় থাকা আরও দুই সহযোগী পালিয়ে যান।
আটককৃত অটোরিকশাচালকের ভাষ্যমতে, এসএসএই/ওয়ার্কস/ডিজিপি গোডাউনের নিরাপত্তাপ্রহরী, এক দোকানদারসহ তিনজন তার অটোরিকশায় রেললাইনের কাটা অংশ তুলে দেন এবং পৌরসভার সামনে একটি দোকানে মালামাল নামানোর নির্দেশ দেন। পরে কোতোয়ালি থানা পুলিশ তাকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যায়। কিন্তু অভিযুক্ত নিরাপত্তা প্রহরী মো. মোজুরুল ইসলামকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি গত ৭ এপ্রিল রাত আনুমানিক সাড়ে ১০ থেকে ১১টার মধ্যে ঘটে বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে ডিউটিতে থাকা ওই নিরাপত্তাপ্রহরীকে রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এ ঘটনায় বুধবার (৮ এপ্রিল) কোতোয়ালি থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অন্যদিকে একই গোডাউনের আরেক নিরাপত্তাপ্রহরী জানান, তিনি দিনের ডিউটি শেষে বাজার থেকে ফেরার পথে একটি অটোরিকশায় বস্তাভর্তি সন্দেহজনক মালামাল দেখতে পান। সন্দেহ হলে তিনি অটোরিকশাটি থামিয়ে তল্লাশি চালান এবং রেললাইনের কাটা অংশ দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় অটোরিকশাটি আটক করা হয়। এ সময় অটোরিকশায় থাকা আরেক ব্যক্তি পালিয়ে যান। পরে তিনি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে কর্মকর্তাদের অবহিত করেন এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ এসে মালামালসহ অটোরিকশাচালককে আটক করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। এর আগেও গভীর রাতে অটোরিকশা বা ভ্যানযোগে এ ধরনের মালামাল গোডাউন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করলে অভ্যন্তরীণ আরও লোকজন জড়িত থাকার প্রমাণ মিলতে পারে।
এ বিষয়ে এসএসএই/ওয়ার্কস, বাংলাদেশ রেলওয়ে দিনাজপুরের কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম স্বপন বলেন, ‘আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখছি। ইতোমধ্যে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’