মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় গভীর রাতে পরিচালিত এক ঝটিকা অভিযানে পাচারকালে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে একটি পিকআপ ভ্যানসহ প্রায় ৫৬০০ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়, যা অবৈধভাবে পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার (৯ এপ্রিল) রাতের অন্ধকারে মহম্মদপুর সেতুর পূর্ব পাশে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহনুর জামান। এ সময় মহম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল উপস্থিত ছিল।
অভিযানে জড়িত চক্রকে হাতেনাতে আটক করা হয়, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। প্রথমিক তদন্তে জব্দকৃত তেলের চালানের সঙ্গে ‘বাবুল ট্রেডার্স’-এর আরমানের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, আরমান দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি তেল ও গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে অনিয়ম, মজুদদারি এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে আসছেন।
এ ঘটনায় আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে-একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এ সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। ফলে জনমনে এখন একটাই প্রশ্ন-এই অবৈধ বাণিজ্যের পেছনে থাকা আসল ‘গডফাদার’ কারা?
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহনুর জামান নাগরিক প্রতিদিন-কে জানান, ‘‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ‘নদী’ নামের একটি ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে ছয় ব্যারেল জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি সংকটকে পুঁজি করে যারা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অবৈধভাবে মুনাফা লুটছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। প্রশাসনের এই অভিযানে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এলেও তারা শুধু বাহ্যিক অভিযানে সন্তুষ্ট নন। দ্রুত সময়ের মধ্যে সিন্ডিকেটের মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রভাবশালীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।