ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম প্রায় ৫০০ টাকা বেড়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। সরকার নির্ধারিত মূল্য থাকলেও বাস্তবে খুচরা বাজারে তার কোনো প্রতিফলন নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, সরকার নির্ধারিত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য ১ হাজার ৭২৮ টাকা হলেও বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ১০০ টাকায়। শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি দোকানেই নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ ভোক্তাদের বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে প্রতিদিনের নিত্যপ্রয়োজনীয় এই জ্বালানির জন্য।
হঠাৎ করে এমন মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ ও সীমিত আয়ের পরিবারগুলো। অনেকেই বাধ্য হয়ে গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে দিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকছেন।
ক্রেতাদের অভিযোগ, কোনো ধরনের নজরদারি না থাকায় বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছেন। এক ভোক্তা বলেন, ‘সরকার দাম নির্ধারণ করে দিলেও আমরা সেই দামে গ্যাস পাই না। প্রতিটি সিলিন্ডারে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে।’
অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, ডিস্ট্রিবিউটর বা কোম্পানিগুলোই বেশি দামে সিলিন্ডার সরবরাহ করছে। এক বিক্রেতা জানান, ‘যে গ্যাস ১ হাজার ৭২৮ টাকায় বিক্রির কথা, সেটি আমরা ১ হাজার ৯৩০ টাকায় কিনছি। তাহলে কম দামে বিক্রি করব কীভাবে?’
পরিবেশকরাও একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের অজুহাতে কোম্পানিগুলো দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে স্থানীয় বাজারে। তারা জানান, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ জরুরি। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত বাজার মনিটরিং, সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং কঠোর নজরদারি ছাড়া এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
এদিকে সাধারণ মানুষ আশঙ্কা করছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এলপিজির এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলবে। একই সঙ্গে ভোক্তা ও ব্যবসায়ী-দুই পক্ষই দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারেন।