বান্দরবানে মারমা সম্প্রদায়ের প্রধান সামাজিক উৎসব সাংগ্রাই শুরু হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে স্থানীয় রাজারমাঠে বেলুন উড়িয়ে চারদিনব্যাপী সাংগ্রাই উৎসবের উদ্ধোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী। পরে সাংগ্রাই উৎসবকে ঘিরে আয়োজিত বর্নাঢ্য সাংগ্রাই শোভাযাত্রা শুরু হয়।
শোভাযাত্রায় মারমা, ম্রো, খুমি, চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা, ত্রিপুরা, বম, লুসাইসহ ১১টি ক্ষুদ্র নৃজনগোষ্ঠীর তরুন-তরুন, শিশু কিশোর নারী পুরুষেরা নিজস্ব জাতিস্বত্বার পোষাক পড়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেয়। শোভাযাত্রাটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিন করে। পরে বয়স্ক পূজা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এদিকে সাংগ্রাই উৎসবের দ্বিতীয়দিন ধর্মীয়ভাবে বুদ্ধমূর্তি স্নান অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রীয় বৌদ্ধবিহার থেকে বৌদ্ধ ভিক্ষু, শ্রমণ এবং বৌদ্ধ ধর্মালম্বী নারী পুরুষেরা খালি পায়ে হেটে সাঙ্গু নদী চড়ে মিলিত হবে বুদ্ধমূর্তির স্নান অনুষ্ঠানে। কষ্টিপাথরের কয়েকশ বছরের পুরনো বুদ্ধমূর্তিতে পবিত্র জল ঢালা হবে পূর্ণের আশায়। শেষে বিশ্ববাসীর মঙ্গল কামনায় প্রার্থণা করা হবে।
তৃতীয় দিন স্থানীয় রাজারমাঠে সাংগ্রাইয়ের উৎসবের মূল আকর্ষণ জলকেলি বা ঐতিহ্যবাহী পানি খেলা অনুষ্ঠিত হবে। পাহাড়ি মারমা তরুণীরা কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে মেতে উঠে জলকেলিতে।
প্রচলিত আছে জলখেলীর মাধ্যমে মারমা তরুণ-তরুনীরা ভাবের আদান প্রদান করে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়। রাতের বেলায় পাহাড়ি পল্লীগুলোতে সারিবদ্ধভাবে বসে পিঠা তৈরি করা হবে। চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও।