নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার হাফসার জীবন এখন চরম অনিশ্চয়তায়। দারিদ্র্য আর সংগ্রামের সঙ্গে দীর্ঘদিন লড়াই করে আসা এই নারী সম্প্রতি কালবৈশাখী ঝড়ে হারিয়েছেন তার শেষ আশ্রয়টুকুও।
জানা যায়, উপজেলার সুখারী ইউনিয়নের কাহেতুরা গ্রামে ছিল হাফসার ঘর। নিজের নামে এক শতাংশ জমিও নেই। অন্যের জমিতে ছোট্ট একটি ঘর তুলে কোনোভাবে মাথা গুঁজে বসবাস করতেন তিনি। স্বামী আফসোস মিয়া বহু বছর আগে মারা যাওয়ার পর চার সন্তানের পুরো দায়িত্ব এসে পড়ে তার কাঁধে। জীবিকার কোনো স্থায়ী উৎস না থাকায় কখনো খেয়ে, না খেয়ে দিন কাটত তাদের।
হাফসার তিন মেয়ে ও এক ছেলে। এর মধ্যে মেয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী, যার চিকিৎসা ও দেখভালের বাড়তি চাপও বহন করতে হয় হাফসাকে। অভাব-অনটনের মধ্যেও সন্তানদের নিয়ে কোনোভাবে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।
কিন্তু সম্প্রতি বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে তার বসতঘরের ওপর একটি গাছ ভেঙে পড়ে। মুহূর্তেই ভেঙে চুরমার হয়ে যায় সেই ছোট্ট ঘরটি। ঝড় থেমে গেলেও থামেনি হাফসার দুঃখ-দুর্দশা।
বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটছে হাফসা ও তার সন্তানদের। রাত নামলেই বাড়ে অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তাহীনতা ও খাদ্যের সংকট। প্রতিবেশীদের সামান্য সহায়তায় কোনোভাবে দিন পার করলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, হাফসার মতো অসহায় পরিবার এলাকায় খুব কমই আছে। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা তার কাছে পৌঁছায়নি।
এদিকে মানবিক সমাজের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন হাফসা। তার আশা—সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষের সামান্য সহায়তা পেলে আবারও একটি মাথা গোঁজার ঠাঁই তৈরি করতে পারবেন এবং সন্তানদের নিয়ে নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখতে পারবেন।
মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এলাকাবাসী।