সাতক্ষীরা জেলার দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠে এখন সোনালি ধানের সমারোহ। চলতি বোরো মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং কৃষি বিভাগের সঠিক নির্দেশনায় জেলায় ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। মাঠের পর মাঠ সোনালি ধানের শীষ বাতাসে দোল খাচ্ছে, যা দেখে দীর্ঘদিনের হাড়ভাঙা খাটুনির পর তৃপ্তির হাসি ফুটেছে উপকূলীয় এই জেলার কৃষকদের মুখে।
অনেক এলাকায় লোনা পানির আধিক্য থাকলেও নতুন উদ্ভাবিত লবণ সহিষ্ণু জাতের ধান চাষ করে কৃষকরা সফলতা পেয়েছেন।
তালা উপজেলার প্রান্তিক কৃষক রবিউল ইসলাস জানান, ‘এবার ধানের চেহারা খুব ভাল হয়েছে। পোকা-মাকড়ের উপদ্রব কম ছিল এবং সময় মতো সেচ দেওয়ায় ফলন অনেক বেশি হয়েছে। প্রতি বিঘায় ১৮-২০ মণ করে ধান পাওয়ার আশা করছি।’
আশাশুনি উপজেলার কৃষক ফারুক হোসেন জানান, বাম্পার ফলন হলেও দেশজুড়ে বয়ে যাওয়া মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহের কারণে ধান কাটার জন্য শ্রমিক পেতে কিছুটা বিপাকে পড়েছেন তারা। এছাড়া কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টির ভয় তো আছেই!
সাতক্ষীরার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো সাইফুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৮০ হাজার ৮০০ হেক্টর জমি। তবে ফলন ভালো হওয়ায় এবং কৃষকদের আগ্রহে শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রায় ৮২ হাজার ৬৭৩ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। অনুকূল পরিবেশের কারণে এ বছর জেলায় প্রায় ২ লাখ ৪১ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের প্রত্যাশা করছে কৃষি বিভাগ।
কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টি কারণে দ্রুত ধান ঘরে তোলার জন্য কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।