অনলাইনভিত্তিক প্রতারক কবিরাজ চক্রের ফাঁদে পা দিয়ে সর্বশান্ত হন শেরপুরের এক কিশোরী। টিকটকে পরিচয়ের সূত্র ধরে ধাপে ধাপে অর্থ ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেয় চক্রটি। পরে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৬৪ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
এ ঘটনায় মূলহোতা কনটেন্ট ক্রিয়েটর মনির হোসেন (২১)-সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে জামালপুর পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত।
ভুক্তভোগী মোছা. লুবাবা (১২) শেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা সাইদুর রহমান জেলা সদরের মাধবপুর এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় কাপড় ব্যবসায়ী।
পিবিআই জানায়, পরিবারে অবহেলার শিকার হচ্ছেন, এমন মানসিক অবস্থার সুযোগ নেয় প্রতারক চক্রটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও দেখতে দেখতে একপর্যায়ে টিকটকে ‘তান্ত্রিক’ পরিচয়ে মো. খোরশেদ কবিরাজ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে লুবাবার পরিচয় হয়। পরে ওই ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা ‘কবিরাজ’ নামে দুটি এবং ‘আল্লাহর দান’ নামে একটি ইমু অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে কিশোরীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখে এবং সব সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিতে থাকে।
এরপর শুরু হয় প্রতারণার মূল খেলা। নানা অজুহাতে কবিরাজি ফি, খাসি, জায়নামাজ, আগরবাতি, মোমবাতি, দুধ ও ফল কেনার কথা বলে গত ৬ থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত ধাপে ধাপে বিকাশের মাধ্যমে ২ লাখ ৪৩ হাজার ১৫০ টাকা হাতিয়ে নেয় তারা। এরপর আরও অর্থ দাবি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে কৌশলে কিশোরীর কাছ থেকে তার মা-বাবার প্রায় সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ১ লাখ টাকা নেয় চক্রটি।
পরবর্তীতে আবার টাকা চাইলে লুবাবা বিকাশে অর্থ পাঠাতে গেলে দোকানদার তার বয়স কম হওয়ায় বিষয়টি সন্দেহ করেন এবং তার বাবাকে জানান। এতে পুরো প্রতারণার বিষয়টি সামনে আসে। পরে তার বাবা শেরপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি পিবিআই সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের নজরে এলে তার নির্দেশনায় জামালপুর পিবিআই তদন্ত শুরু করে।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ৯ এপ্রিল গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে দুই সহযোগী মুছা মিয়া (২৯) ও রফিকুল ইসলাম (২৮) গ্রেপ্তার করা হয়।
তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি উপজেলার মাসকান্দা নতুন বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূলহোতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাড়ির পাশের বাগানে মাটির নিচে পুঁতে রাখা ২৫ ভরি ৯ আনা ৪ রতি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।
অভিযানকালে একটি আইফোন ১৭ প্রোম্যাক্সসহ মোট পাঁচটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালংকারের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬৪ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পিবিআই।
পিবিআই পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলেন, ‘মামলার রহস্য উদঘাটনে একাধিক টিম সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। তাদের প্রচেষ্টায় মূলহোতাসহ জড়িতদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে এবং প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।’