গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর এলাকায় দিন দিন বাড়ছে জনসংখ্যা ও শিল্পকারখানার সংখ্যা। তবে সেই তুলনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসংখ্যা না বাড়ায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। এরই মধ্যে কাশিমপুর থানা পূর্বাঞ্চলের নামা বাজার এলাকায় স্থানান্তরের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ায় পশ্চিমাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক ও ভিন্নমত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাশিমপুর এলাকায় বর্তমানে প্রায় ৬ লাখ মানুষের বসবাস। পাশাপাশি এখানে গড়ে উঠেছে গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল, আবাসিক এলাকা এবং ব্যস্ত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। ফলে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পুলিশের সদস্যদের।
বিশেষ করে কাশিমপুরের পশ্চিমাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি কলকারখানা অবস্থিত। চন্দ্রা-নবীনগর মহাসড়ক ঘিরে প্রতিদিন হাজার হাজার শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের চলাচল রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এ এলাকায় মাঝেমধ্যেই চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এছাড়া বন বিভাগের বিস্তীর্ণ এলাকা থাকায় রাতের বেলায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বাসিন্দারা।
এদিকে, কাশিমপুর থানাকে পূর্বাঞ্চলের নামা বাজার এলাকায় স্থানান্তরের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। জিরানী বাজারসহ আশপাশের এলাকা থেকে প্রস্তাবিত থানার দূরত্ব প্রায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার হওয়ায় জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত পুলিশি সহায়তা পাওয়া কঠিন হবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এলাকাবাসীর দাবি, কাশিমপুরের সবচেয়ে ব্যস্ত শিল্পাঞ্চল ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা বিবেচনায় জিরানী বাজার থেকে মোজারমিলের মাঝামাঝি স্থানে নতুন একটি থানা স্থাপন করা হোক। তা সম্ভব না হলে অন্তত একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্যথায় এই এলাকায় অপরাধ দমন করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মত স্থানীয়দের।
এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান বলেন, গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকায় বর্তমানে আটটি থানা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা বাড়িয়ে ১৬টি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কাশিমপুরের পশ্চিমাঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং চন্দ্রা-নবীনগর মহাসড়কে সংঘটিত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত নতুন থানা বা পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।