ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার পাথারিয়াদ্বার সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীসহ দুই বাংলাদেশি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ধজনগর বাতানবাড়ি সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, গোপীনাথপুর শাহ আলম ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী মোরছালিন এবং নবীর হোসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের আঁধারে কয়েকজন চোরাকারবারি মোরছালিনকে বাড়ি থেকে ডেকে সীমান্ত এলাকায় নিয়ে যায়। একই সময়ে আরও কয়েকজন যুবকের সঙ্গে নবীর হোসেনও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা কাঁটাতারের কাছাকাছি পৌঁছালে বিএসএফ সদস্যরা গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই মোরছালিন নিহত হন।
পরিবারের দাবি, গুরুতর আহত অবস্থায় নবীর হোসেনকে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, নিহত দুইজনের মরদেহ বর্তমানে ভারতের জিবি হাসপাতালে রয়েছে। এছাড়া গুলিতে আহত আরও কয়েকজনকে কুমিল্লাসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ধজনগর গ্রামের বাসিন্দা রিপন পাঠান জানান, প্রায় ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল সীমান্তের দিকে গেলে এ গুলির ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, মোরছালিন এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
অন্যদিকে, নবীর হোসেনের ছেলে তপন জানান, সন্ধ্যার পর থেকেই তার বাবাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে বাবার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হন তারা।
ঘটনার বিষয়ে চণ্ডীদ্বার বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার মো. মুইনুদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘নিহতের তথ্য আমরা পেয়েছি। সীমান্ত পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।’
কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।